মেলেনি চাকরি, স্কুলে তালা দিলেন জমিদাতা

সুচন্দন কর্মকার, হেমতাবাদ : জমির বিনিময়ে চাকরির দাবি ছিল শর্ত। সেই শর্ত মেনে দানের জমিতে স্কুল নির্মাণ হলেও হয়নি চাকরি। শর্তপূরণ না হওয়ায় স্কুলভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন জমিদাতা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোলা আকাশের নীচেই চলছে পড়াশোনা। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জমিদাতার এমনই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে হেমতাবাদের পূর্ব ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে এই অচলাবস্থা। যদিও এরই মধ্যে একবার প্রশাসন ও পঞ্চায়েত তালা ভেঙে দিলেও ফের তালা বন্ধ করেছে জমিদাতা। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আলোচনার মাধ্যমে এই জমি জট কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে সমস্যা না মিটলে আইনি পদক্ষেপ নেবে ব্লক শিক্ষাদপ্তর।

গত ১৫ জুলাই স্কুলে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটে। এই স্কুলের মিড-ডে মিল রাঁধুনির পরিবার বিদ্যালয় গড়তে জমি দিয়েছিল ২০০১ সালে। তারপর ১৯ বছর পার হয়েছে। কিন্তু সে সময় জমির বদলে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রশাসন, তা পূরণ হযনি। তাই জমি ফিরয়ে নিতে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে জমিদাতা পরিবার। গত ২৫ জুলাই এই ঘটনার পর স্থানীয় পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন সক্রিয় হয়। স্কুলে তালা ঝোলার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভিইসির সভাপতি তথা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ, বাঙ্গালবাড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান আনোয়ারা বেগম, ব্লক তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলাম এই সংকট মেটাতে এগিয়ে আসেন। ব্লক শিক্ষাদপ্তরের এসআই অভিষেক সাহা ও ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতিতে গত ১ অগাস্ট স্কুলের তালা খুলে দেন গ্রামবাসীরা। এরপর ২ অগাস্ট স্কুল চলে স্বাভাবিকভাবে। ফের ৩ অগাস্ট এই স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে জমিদাতা পরিবার। ফলে স্কুল চলছে খোলা আকাশের তলায়।

- Advertisement -

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন রায় বলেন, স্কুলের রাঁধুনি সুফিয়া খাতুন বিদ্যালয়ে তালা মেরে দিয়েছেন। কারণ, তার স্বামী ছিলেন এই বিদ্যালয়ের জমিদাতা। সেই সূত্রে সরকারি চাকরির দাবি করছেন তিনি। সেই দাবি পূরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। হেমতাবাদের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অভিষেক সাহা জানান, জমিদাতা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে। ফের ভিইসি কমিটি আলোচনায় বসবে। যদি আলোচনায় সমাধান সূত্র না মেলে, তাহলে স্কুল দখলমুক্ত করতে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এসআই আশাবাদী আলোচনায় জট কাটবে।

সুফিযা খাতুনের দাবি, জমির বদলে শিক্ষিকার চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্বামীকে। এরপর ২০০৫ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। কিন্তু তাঁর চাকরি হয়নি। এই স্কুলে তিনি মিড-ডে মিল রান্না করতেন একসময়। এখন তার বদলে সেই কাজ করছে মেয়ে। বয়স পেরিয়েছে, তাই আর চাকরি চাই না। এখন নিজের জমি ফেরত চাই। এমনটাই দাবি সুফিয়াদেবী। এই স্কুল চলতে দেবে না। যদি প্রশাসন তাঁকে জেলে পাঠায় তাহলেও নিজের জমির দখল নিতে লড়াই চালিযে যাব বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমন অবস্থায় এই বিদ্যালয়ের ৫৬ জন ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। মাঝে ১ দিন মিড-ডে মিল হলেও ২৫ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে আছে রান্না।