শিলিগুড়ি, মে : হিলকার্ট রোডের ফুটপাথ ঘেঁষে, সরকারি স্কুলের সামনে সরকারি এবং ব্যক্তিগত জমি দখল করে তৈরি হচ্ছে বাড়ি, দোকান। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই অবাধে চলছে মদ, জুয়ার আসর। এমনই অভিযোগ উঠেছে প্রধাননগর থানার গুরুংবস্তি এলাকায়। সেখানকার দেশবন্ধু হিন্দি হাইস্কুলের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, পুলিশকে বারবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরেও কাজ হচ্ছে না। এই ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলার তথা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র এবং তাঁর লোকজনের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে, ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো বলেন, ওই জমিতে আমার জন্মের আগে থেকে লোকজন বসবাস করছেন। সেখানে মদ, জুয়ার আসর বসে এমন অভিযোগ আমার কাছে নেই। কোনো বেআইনি কারবার হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো অনৈতিক কাজে আমরা মদত দিই না। প্রধাননগর থানা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

গুরুংবস্তি এলাকায় মদ, জুয়ার পাশাপাশি ড্রাগসের রমরমা কারবার চলে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে। এবার খোদ সরকারি জায়গা দখল করে সেখানে বেআইনি কারবার চালানোর অভিযোগ উঠছে। জংশনের দিক থেকে শহরে আসার সময় মহানন্দা সেতুর কাছাকাছিই রয়েছে শিলিগুড়ি দেশবন্ধু হিন্দি হাইস্কুল। হিলকার্ট রোড থেকে এই স্কুলে নামার জন্য একটি ছোট্ট সিঁড়ি রয়েছে। সেই সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামলেই দেখা যাবে বাঁদিকে হিলকার্ট রোড ঘেঁষেই টিনের চালা দিয়ে দোকান তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন পরপরই দখলের পরিমাণ বাড়ছে। পূর্ত দপ্তরের এই জমির পাশাপাশি সামনেই ১৪ কাঠার একটি ফাঁকা জমি পড়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, সেই জমিটি রণজিৎ সিং এবং তাঁর ভাই ভারত সিংয়ের নামে রয়েছে। সেই জমির অনেকটাই দখল করে কয়েকজন সেখানে বসবাস করছেন। এই পরিবারগুলিও কিছুদিন পরপরই জমি দখলের পরিমাণ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে প্রধাননগর থানায়। জমির মালিকরা জমির দখল নিতে গেলেও পরিবারগুলি বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এই জায়গাজুড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দেশি মদের কারবার শুরু হয়। পাশাপাশি চলে জুয়ার আসরও। মদের বোতলগুলি ফাঁকা জমিতে গজিয়ে ওঠা জঙ্গলে মজুত রাখা হয়। সেখান থেকে এনেই খদ্দেরদের কাছে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ, শুধু গুরুংবস্তিই নয়, প্রধাননগর, নিবেদিতা রোড, জংশন, কুলিপাড়ার প্রচুর যুবক সন্ধ্যার পরে এখানে এসে আসর বসাচ্ছে। কিন্তু এলাকার কাউন্সিলার বা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপই করছে না। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কাউন্সিলারের লোকজনই ওই পরিবারগুলিকে মদত দিচ্ছেন। যার জেরে পরিবারগুলিও জমি খালি করা দূরে থাক আরও জমি দখল করে বসছে। বিষয়টি নিযে পূর্ত দপ্তরের নর্থবেঙ্গল কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের এক কর্তা বলেন, আমাদের কাছে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।