জাতীয় সড়কের পাশে জমি দখল ধূপগুড়িতে

শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি : দিনেরবেলায় জাতীয় সড়কের পাশে থাকা সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। ধূপগুড়ি থেকে শিলিগুড়িগামী ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের অংশ দখল নিয়ে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগও উঠেছে। এই ধরনের দখলদারি নিয়ে সম্প্রতি ধূপগুড়ি থানায় এক যুবক লিখিত অভিযোগ দায়ে করেছেন। ধূপগুড়ি থেকে শিলিগুড়িগামী জাতীয় সড়কের ময়নাতলি সংলগ্ন এলাকায় একজন কৃষকের রেকর্ডভুক্ত জমির সামনে বাঁশ দিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করছিলেন অপর এক ব্যক্তি। বাঁশ তুলে ফেলে দেওয়া হলেও পুনরায় বাঁশ গেড়ে জায়গা দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, এশিয়ান হাইওয়ের পাশে এর আগেও সরকারি জমি দখলের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। দখল হয়ে যাওয়ার পর অনেকে সেখানে দোকানও খুলেছেন। সেই দোকানের পাশে গাড়ি দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। এইভাবে দখলদারির প্রবণতা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। কোথাও রেকর্ডভুক্ত জমির মালিক তাঁর জমির সামনের সরকারি জায়গা নিজে দখলমুক্ত করেছেন। তবে অনেক জায়গা এখনও দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বারবার কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আদতে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর পাশে ঠাকুরপাট সংলগ্ন এলাকায় জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এদিকে সরকারি খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির সামনের অংশ দখল হওয়ায় সেই জমির লাগোয়া অন্য জমিও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া, এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। থানায় অভিযোগ দায়ে করা ওই যুবক বলেন, কৃষিজমির সামনে সরকারি জমি রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে হঠাৎই কয়েকজন মিলে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি গেড়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারতে আসে। ঘটনায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হই।

ধূপগুড়ি-শিলিগুড়িগামী জাতীয় সড়কের পাশের সরকারি জমি দখল নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর সঞ্জীব শর্মা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি দখল হয়ে থাকলে সেগুলি দখলমুক্ত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ডেন্ডুপ শেরপা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না।