শিলিগুড়ি মহকুমায় জাল নথি দিয়ে জমি বিক্রি হচ্ছে

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : অনলাইনে তথ্য না থাকায় শিলিগুড়ি মহকুমায় বহু মানুষের জমি হাতিয়ে অন্যকে বিক্রি করে দিচ্ছে মাফিয়াচক্র। ইতিমধ্যে মহকুমার চারটি ব্লকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাংশের মদতে এমন প্রচুর জমির নথি জাল করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। চারটি ব্লক থেকেই প্রচুর অভিযোগ ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে। অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতির জেরে জমির নথিপত্র অনলাইনে আপলোড হয়নি, অথচ তার ফল ভুগতে হচ্ছে আমজনতাকে। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন দার্জিলিংয়ে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক নিবিল ঈশ্বরারি। তিনি বলেন, আমরা চারটি ব্লককে চিঠি দিয়ে যে সমস্ত জমির তথ্য অনলাইনে আপলোড হয়নি তার নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছি। সাধারণ মানুষও সরাসরি আমাদের কাছে নথিপত্র জমা দিতে পারেন। কোনও জমি নিয়ে কারবার হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেশ কয়েক বছর আগে গোটা রাজ্যেই জমির নথিপত্র রিভিশনাল সেটেলমেন্ট (আরএস) খতিয়ান থেকে ল্যান্ড রিফর্মরস (এলআর) খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। এলআর খতিয়ানভুক্ত হওয়ার সময়ই সব জমির নথিপত্র অনলাইনে আপলোড করা হয়। সরকারি পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে সার্চিং বলা হয়। এই সার্চিং-এর সময় মহকুমার বহু বাসিন্দার জমির তথ্য তোলা হয়নি। খড়িবাড়ি থেকে ৪৬টি মৌজার ৩২৫টি, নকশালবাড়ি ব্লকের ৪৮টি মৌজার ৪৫৫টি, মাটিগাড়া ব্লকের ৪৪টি মৌজার ৫০০টি এবং ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ৫৬টি মৌজার ৫৪৩টি খতিয়ানের তথ্য সার্চিংয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে গত বছরের শেষ দিকেই ব্লকগুলি থেকে জেলায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর বাইরেও প্রচুর জমির নথি না পেয়ে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে আসছেন সাধারণ মানুষ। আর এই সুযোগেই সরকারি দপ্তরের নথি হাতে নিয়ে বিভিন্ন মৌজায় জমি দখল করে তা বিক্রি করে দিচ্ছে জমি মাফিয়ারা।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, বাইরের বহু মানুষ এই চারটি ব্লকেই প্রচুর জমি কিনে রেখেছেন। তাঁদের জমিগুলিও মাফিয়ারা দখল করে বিক্রি করে দিচ্ছে। ওই ব্যক্তি যখন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে যোগযোগ করছেন, দেখা যাচ্ছে ওই ব্যক্তির নামে এলআর খতিয়ান তৈরি হয়নি। ওই জমি অন্য কারও নামে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। আবার এমনও হয়েছে যে, একই জমির দুজন দাবিদার একসঙ্গে ভূমি সংস্কার দপ্তরে হাজির হচ্ছেন। দুজনের কাছেই একই দলিল রয়েছে। ফলে কে আসল আর কে নকল তা বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।

খড়িবাড়ির বাসিন্দা দুলাল দেবনাথ বলেন, আমার ধুলিয়া মৌজায় পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে। আমি এই জমিটি বিক্রি করব বলে একজনের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত করি। কিন্তু জমির খতিয়ান নিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে দেখি, আমার জমির কোনও নথি নেই। ওই জমি অন্য কারও নামে উঠেছে বলে আমাকে জানানো হয়। তার পরেই আমি লিখিতভাবে সমস্ত তথ্য দিয়ে আবেদন করি। প্রশাসন জমি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছে। সেই ভরসাতেই বসে রয়েছি। আবার মহকুমার বেশ কিছু মৌজায় আদিবাসীদের জমিও জেনারেল হিসাবে খতিয়ানভুক্ত হয়ে গিয়েছে।

দার্জিলিংয়ে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বলেন, সব ব্লকেই এই সমস্যা রয়েছে। সার্চিংয়ে অনেকেরই জমির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটিকেই আপ টু ডেট করছি। কোন ব্লকে কত নাম এমন বাদ রয়েছে তা দ্রুত পাঠানোর জন্য ব্লকগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।