ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি মেলেনি, অনিশ্চিত মহাসড়ক

783

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে মহাসড়ক তৈরি করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারের জনসভায় জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া সত্ত্বেও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে প্রযোজনীয় ৪২ একর জমির মধ্যে সাড়ে ৩৩ একর জমি হস্তগত করতে পারেনি। একইভাবে জলপাইগুড়িতে আট একর জমির দখল পাওয়া যায়নি। এর জেরে দুই জেলায় মহাসড়ক তৈরির কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের কালীপুর মৌজায় ১৭ জন জমির দখল ছাড়ছেন না। জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে বিন্নাগুড়ি, ছট গুজিমারি, পাতকাটা, বাহাদুর ও উল্লারডাবরি এলাকাতেও বেশ কয়েকজন একইভাবে জমির দখল ছাড়তে রাজি নন। জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ মেলেনি বলে অভিযোগ জানিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে ৬৩টি মামলা দায়ে করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এভাবে আটকে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্বেগে পড়েছে। এনএইচএআইএর উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, শীতের মরশুম রাস্তার কাজের জন্য আদর্শ সময়। কিন্তু সময়মতো জমি না মেলায় রাস্তার কাজ করা যাচ্ছে না। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া সত্ত্বেও আমরা আলিপুরদুয়ার জেলায় সাড়ে ৩৩ একর এবং জলপাইগুড়িতে আট একর জমির দখল পাইনি। এর জেরে সময়মতো রাস্তার কাজ শেষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মহাসড়কের কাজে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। ফালাকাটা ব্লকের কালীপুর মৌজার বেশ কিছু বাসিন্দা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় জমি ছাড়তে চাইছেন না। অনেকেই এজন্য আদালতে মামলাও করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রামকমল রায় বলেন, পাশের রাইচেঙ্গা মৌজায় বাস্তুজমির মূল্য প্রতি ডেসিমেলে তিন লক্ষ টাকারও বেশি দেওয়া হয়েছে। আবার পাশের মেজবিল মৌজাতে প্রতি ডেসিমেল ৮৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কালীপুরে বাস্তুজমির মূল্য প্রতি ডেসিমেল ২৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এজন্যই আমরা জমি ছাড়ছি না। ন্যায্যমূল্যের দাবিতে আমরা আদালতে মামলা করেছি। খুব শীঘ্রই আদালতে শুনানি হবে। কালীপুরের সুশীল সরকার, বিমল বালোদের একই বক্তব্য। মেজবিলের পাশে পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি মৌজাতেও একই সমস্যায় মহাসড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। জমির মূল্য কম হওয়ায় বাসিন্দারা এখানে সংগ্রাম কমিটি গড়ে আন্দোলনে নেমেছেন। কমিটির সভাপতি পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, আমরা জমি ছাড়ছি না। এজন্য আমরাও আদালতে মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আপাতত এই এলাকায় মহাসড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাজারের তুলনায় কম দর পাওয়ায় তাঁরা জমি ছাড়বেন না বলে ময়নাগুড়ির বাসিন্দা তারাচাঁদ সরকার জানান।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের দাযিত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা শাসক দীপঙ্কর পিপলাই বলেন,কিছু এলাকায় এসব সমস্যা রয়েছে। আমরাও রিপোর্ট নিচ্ছি। তবে এই বিষয়টি এখনও পুরোপুরিভাবে জলপাইগুড়ির বিশেষ অধিগ্রহণ দপ্তর দেখছে। জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটর গৌতম দাস বলেন, মহাসড়কের জমির জন্য ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জলপাইগুড়ি ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে শুনানির পর ক্ষতিপূরণের টাকা ছয়গুণ বেশি দেওয়া হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা নেওয়ার পরও বেশ কয়েজন জমির দখল ছাড়ছেন না। ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাঁরা আরও বেশি অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে ৬৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অধিকাংশ মামলার শুনানিও হয়েছে।