মন্ত্রীর এলাকায় জমি দখলে প্রভাবশালী যোগ

file photo

শিলিগুড়ি : ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় সরকারি জমি দখলে শুধুমাত্র জমির দালালরাই নয়, নাম রয়েছে বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী লোকদের। যার ফলে অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে গিয়ে পিছিয়ে আসতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

শুধু সরকারি জমিই নয়, ব্যক্তিগত মালিকানার জমি গায়ে জোরে, কোনও কোনও সময় পেশার প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে বেশ কয়েকবার জমির দালালদের গ্রেপ্তার করা হলেও প্রভাবশালীদের দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে প্রশাসনকে। স্বাভাবিক কারণে ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন এলাকাই হোক কিংবা ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পোড়াঝাড় এলাকায় অবাধে সরকারি জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে যদি প্রশাসনের তরফে জমি উদ্ধারে না নামা হয়, তবে চোখের নিমেষে পোড়াঝাড় এলাকার বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি চলে যাবে দালালদের দখলে। এলাকার বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বহুবার, কিন্তু বাস্তবে জমির দখলদারি বন্ধ করা যায়নি।

- Advertisement -

গত বছর উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে এসে জমির দালালদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় ওই জমি দখলে প্রশাসনের কিছু লোকের য়োগসাজশ নিয়ে সরাসরি অভিয়োগ তুলেছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী সেই সফর শেষে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পর কয়েকজন জমির দালালকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। কিন্তু পরবর্তীতে আবার যে কে সেই অবস্থা। শিলিগুড়ির অদূরে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় যেভাবে প্রতিদিন জমি দখল হচ্ছে তাতে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই জমির দখলদারিতে বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী লোকদের যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে।

জেলা প্রশাসন পোড়াঝাড় এলাকায় যখন একবার জমি পুনরুদ্ধারে যায়, তখন তারা দেখে, রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি অন্য পেশার লোকরাও জমি দখল করে রয়েছে। সেই সময় প্রশাসনের তরফে ফিরেও আসা হয় বলে সূত্রের খবর। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রভাবশালীদের ডেকে সতর্ক করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যার ফলে শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ি এলাকার জমি প্রতিদিনই অল্প অল্প করে দখল হয়ে যাচ্ছে। ডাবগ্রাম-২ এলাকার হাতিয়াডাঙ্গা, জাবরাভিটাতে কিছু জায়গায় সরকারি জমি দখল, আবার কিছু জায়গায় এক জমি একাধিকবার বেচাকেনার অভিয়োগ উঠেছে।

ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুধা সিংহ চট্টোপাধ্যায় বলেন, লকডাউনের সুযোগ নিয়ে বেশ কিছু জায়গায় জমির দালালরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পুরো বিষয়টি পুলিশ ও বিএলএলআরও অফিসে জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় গরিব মানুষকে ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে জমি নিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। একটা চক্র এই কাজ দীর্ঘদিন ধরেই করে যাচ্ছে। ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নমিতা করাতি বলেন, সরকারি জমি দখলের খবর আমার কাছেও এসেছে। আমি খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে বিষয়টি জানাই। বিএলএলআরওকে জানানো হয়েছে। আমিও চাই সরকারি জমি যেন সরকারি কাজেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও জমি দখল হচ্ছে। আমি বিষয়টি এলাকার বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রীকে জানিয়েছি।

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্য, জমির দালাল চিহ্নিত করা মুশকিল। সাধুর বেশে ভেখধারী প্রচুর মানুষ যাঁরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কে কোথায় যুক্ত হয়ে আছেন বলা মুশকিল। তবে এগুলো আমাদের সরকারি সম্পত্তি। প্রচুর জমি উদ্ধার করেছি। যখন যেখানে খবর পাচ্ছি, সেখানেই জমি উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছি। অনেক জায়গায় সফল হয়েছি। অনেক জায়গায় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছি।