লকডাউনে স্কুলের জমি দখল, পিছনে মাফিয়াদের হাত

রায়গঞ্জ : করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় তিন মাস বন্ধ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই সুযোগে রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া অঞ্চলের বামনগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা দোকানঘর। আবার কেউ কেউ স্কুলের জায়গা বাঁশ দিয়ে ঘিরে নিচ্ছেন নিজের জায়গা ভেবে। অভিযোগ, এলাকার কিছু দাদার মদতেই এই কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় দখলের প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকার দাদাদের মদতে স্কুলের জায়গা দখলের পর ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় অবৈধভাবে হস্তান্তরিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা সব জেনেও ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে গত ২৪ জুন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে এই বিষয়ে একটা লিখিত অভিযোগ দায়ে করেছেন বামনগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপক দাস। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপককুমার ভক্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

অভিযোগ, এতদিন স্কুলের দেয়াল ঘেঁষে দোকান করা হলেও লকডাউনের সুযোগে স্থানীয় কিছু মানুষ স্কুলের ভেতরের জায়গায় গড়ে তুলেছেন পাকাঘর। আবার কেউ কেউ বাঁশ দিয়ে স্কুলের ভেতরে জায়গা ঘিরে নিয়েছেন। ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকেরা গ্রামে ঢুকতেই স্কুল প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা ফাঁকা জায়গা দোকানের জন্য বিক্রি করে দিচ্ছেন এলাকার কিছু যুবক। বেশ কয়েক বছর আগে স্কুলের জায়গা দখল শুরু হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু দখলদারিদের বিরুদ্ধে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায়, দখলদারির মাত্রা থাকে। ইতিমধ্যে ৪০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে স্কুলের জমিতে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় সরকারি স্কুলের সম্পত্তি নিজের মতো করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকেরা চাইছেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ দখলমুক্ত করা হোক। তবে শেষ পর্যন্ত বেআইনি দোকানগুলি ভেঙে দিয়ে বিদ্যালয়ে জমি উদ্ধার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপক দাস জানান, প্রায় তিন মাস ধরে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে এলাকার কিছু মানুষ জমিতে অবৈধভাবে দোকান গড়ে তুলেছে। বেশ কয়েক বছর দখল শুরু হলেও লকডাউনের সুযোগে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। স্কুলের জায়গা দখল করে পরে তা অবৈধভাবে বিক্রিও করা হচ্ছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি আইন অনুযায়ী যে পদক্ষেপ নিতে বলবেন তা আমরা মেনে চলব। স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান, ভিনরাজ্য থেকে শ্রমিকেরা গ্রামে ঢুকতেই এলাকার কিছু যুবক তাদের ভুল বুঝিয়ে স্কুলের জায়গা চড়া দামে বিক্রি করছেন। প্রতিবাদ করলে হামলা হতে পারে এই কারণে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপককুমার ভক্ত বলেন, প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ দেখার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা স্কুলের জমি দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার জন্য বলা হবে।