মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পানিট্যাঙ্কিতে ভারত-নেপাল সীমান্তে সরকারি জমি এবং মেচি নদীর চর বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে প্লটিং শুরু হয়ে একটি বসতিও গড়ে উঠেছে। দালালরা জমি প্লট করে কাঠা প্রতি এক থেকে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। এই দালালদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ। লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এভাবে একটি বসতি গড়ে ওঠায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্য নদীচর দখলের উদাহরণ টেনে এই ঘটনার সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছে ব্লক প্রশাসন।

আন্তারাম মৌজার ছোট বদরাই জোতে মেচি নদীর তীরে আস্ত একটি বসতি গড়ে উঠেছে। নতুন এই বস্তি এলাকায় সরকারি শৌচাগার এবং বিদ্যুৎ সংযোগেরও ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেফালি দেবনাথ, গোপী বর্মন বলেন, স্থানীয় এক দালালের কাছে আমরা নব্বই হাজার টাকা কাঠায় জমি কিনেছি। সেই দালাল আশ্বাস দিয়েছেন যে শীঘ্রই জমির পাট্টা দেওয়া হবে। সেজন্য এখানে জমির দাম বেড়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সিপিএমের হরিমায়া ছেত্রী বলেন, মেচি নদীর চর কে বা কারা বিক্রি করে চলেছেন, তা আমি বলতে পারব না। তবে আমাকে এসএসবি জওয়ানরা অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, জিরো পয়েন্ট বাড়ি তৈরি করে বসবাস করা শুরু হয়েছে। আমি বিষয়টি খড়িবাড়ি বিডিও ও ভূমিসংস্কার আধিকারিককে জানিয়েছিলাম। তিনি জানান, এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বিহার ও কালিয়াগঞ্জ রেললাইন থেকে উচ্ছেদ হয়ে এসেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোহন ছেত্রী বলেন, বেশ কয়েদিন ধরেই আন্তারাম মৌজার ছোট বদরাই জোতে মেচি নদীর তীরে বসতি গড়ে উঠেছে। আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছি। দালালরা বহুদিন ধরে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সিপিএমের হোমনাথ সিংহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানিট্যাঙ্কি এলাকায় মেচি নদীর চর দখল করে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ করছেন না।

রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের ভবতোষ মণ্ডল এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। খড়িবাড়ি ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক শুভ্রজিৎ মজুমদার বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক সপ্তাহ হয়েছে। তাই আন্তারাম মৌজায় মেচি নদীর চর দখলের বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খড়িবাড়ির বিডিও যোগেশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, মহানন্দার চর, বালাসন নদীর চরও দখল হয়ে বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। এখানেও একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট যে বাড়িঘর তৈরি হয়েছে, সেগুলি আন্তর্জাতিক বিষয়।