পিএইচই-র জল সরবরাহ কেন্দ্রের জমি দখল কালচিনিতে

713

সমীর দাস, কালচিনি : কালচিনিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর(পিএইচই)-এর পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ কেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মীর পরিবার কেন্দ্রের জমি দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। তা দেখাদেখি এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা একইভাবে কেন্দ্রটির জমি দখল করা শুরু করেছেন। গোটা ঘটনাটি জানিযে পিএইচই সম্প্রতি কালচিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কালচিনি থানার ওসি অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

পিএইচই সূত্রে খবর, কালচিনিতে প্রায় এক বিঘা জমিতে থাকা তাদের এই পানীয় জল সরবরাহ কেন্দ্রটি থেকে অন্ততপক্ষে ২০ হাজার বাসিন্দা পরিস্রুত পানীয় জল পান। এলাকায় এই কেন্দ্রটির খুবই গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই কেন্দ্রটির জমি দখলের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মীর পরিবারের দিকেই মূলত অভিযোগের তির। ওই কর্মী প্রায় ১০ বছর আগে অবসর নেন। অবসর নেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি মারা যান। সরকারি নিয়ম অনুসারে কোনও কর্মী অবসর নিলে তাঁকে তাঁর জন্য বরাদ্দ সরকারি আবাসন ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর ওই কর্মী মারা যাওয়ার পরও তাঁর পরিবার সংশ্লিষ্ট আবাসনটি ছেড়ে দেয়নি বলে অভিযোগ। আবাসনটি ছাড়তে দপ্তরের তরফে ওই কর্মীর স্ত্রীকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও কোনও কাজ হয়নি। সম্প্রতি ওই মহিলা আবাসনটি ভেঙে সেখানে জমি দখল করে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি দেখে এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা সরকারি জমি দখল করতে এলাকায় খুঁটি পোঁতা শুরু করেছেন। এর জেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উদ্বেগ ছড়ায়। সরকারি জমিকে দখলদারির হাত থেকে বাঁচাতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আলিপুরদুয়ার বিভাগীয় আধিকারিকরা দ্রুত পদক্ষেপ শুরু করেন। কেন্দ্রের জমি দখল হলে পানীয় জল পরিষেবায় সমস্যা হতে পারে ভেবে বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

- Advertisement -

পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, সরকারি জমি দখলের ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। দপ্তরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর স্ত্রী সরকারি আবাসন দখল করে ছিলেন। আবাসন খালি করে দিতে তাঁকে বহুবার নোটিশ পাঠানো হয়। পাশাপাশি, ঘটনাটি জেলা শাসকের দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়। এবারে ওই মহিলা ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা মিলে কালচিনিতে আমাদের জল সরবরাহ কেন্দ্রের জমি দখল করা শুরু করেছেন। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। বহু চেষ্টা করেও মূল অভিযুক্ত বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।