বাগডোগরায় রেলের জমি দখল হচ্ছে

370

বাগডোগরা : বাগডোগরায় রেলের জমি বেআইনিভাবে দখল করে দোকান ও বসতি গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর ওই অবৈধ দখলদারদের মদত দিচ্ছেন খোদ রেলওয়ে সুরক্ষা বলের (আরপিএফের) কিছু কর্মী। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকদিন আগে রেলের জমিতে কয়েকজনকে বসানোর জন্য মোটা টাকাও নেওয়া হয়েছে। যদিও আরপিএফের ইনস্পেকটর সম্বিত রায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাগডোগরা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমি দখল করে বসতি গড়ে উঠছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষই বহিরাগত। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষ মাদক কারবার সহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, বাইরের লোকজনকে এখানে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রেল বিভাগের উদাসীনতায় দখলদারদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেও রাজনৈতিক নেতাদের মদতে রীতিমতো জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বাগডোগরা পুলিশ ওই এলাকায় অভিয়ান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা উদ্ধার করেছিল।

- Advertisement -

বাগডোগরা এলাকার রেলকর্মীদের অভিযোগ, রেলের জমি দখল করে আরপিএফ কর্মীদের একাংশ টাকা নিয়ে ওই জমি বিক্রি করছেন। একটা খুঁটি গাড়া দেখলেই ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আবার রেলের কোয়ার্টার যেদিকে সেইদিকে কেউ খুঁটি গাড়লেই ১৫ হাজার টাকার দিতে হয আরপিএফকে। কয়েকদিন আগে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট মোড়ে এশিয়ান হাইওয়ে টু-র সার্ভিস রোডের পাশে যেসব মাংসের দোকান ছিল সেগুলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়। সেখামে উন্মুক্তভাবে মাংস বিক্রি চলছিল। শেষপর্যন্ত স্বনির্ভর দলের সদস্যারা ওই মাংস বিক্রেতাদের সরিয়ে দেন। উচ্ছেদ হওয়া কিছু মাংস বিক্রেতাই এখন রেলের জমি দখল করে মাংসের দোকান করে বসছেন বলে অভিযোগ। আরপিএফের কয়েকজন কর্মী তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বসতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয বাসিন্দারা জানান, একটি খুঁটি পোঁতা দেখলেই সেখানে গিয়ে টাকা তোলা হয়। সেখানে জমি দখল করে দোকান হলে আরপিএফ কিছুই বলবে না, এটা হতে পারে না। সূত্রের খবর, লক্ষাধিক টাকা নিয়ে দোকান করতে দিয়েছে আরপিএফ। রেলের জমি এভাবে দখল হচ্ছে দোকান, বাড়ি, বসতি গড়ে উঠছে অথচ রেলকর্তাদের চোখ বন্ধ করে বসে থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও আরপিএফের ইনস্পেকটর সম্বিত রায় বলেন, টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ এখনও পর‌্যন্ত পাইনি। তবে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান তুলে দেওয়া হয়েছে।