জমির দাম বেশি, আলিপুরদুয়ারের শিল্পকেন্দ্র নিয়ে হতাশ শিল্পপতিরা

235

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলার দুটি শিল্পকেন্দ্রে শিল্পপতিদের জন্য জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। ফালাকাটা ব্লকের এথেলবাড়ি ও জয়গাঁর শিল্পতালুকের জন্য এই আবেদন নেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীরা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিএসআইডিসি)-এর নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় জমির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু অভিযোগ, দুটি শিল্পকেন্দ্রেই জমির দর বাজারদরের তুলনায় বেশি হওয়ায় আগ্রহীরা পোর্টালে আবেদন করতে গিয়ে পিছিয়ে আসছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকার যখন গোটা রাজ্যেই শিল্পকেন্দ্র চালু ও বিনিয়োগ টানতে উঠেপড়ে লেগেছে তখন আলিপুরদুয়ারে উলটো ছবি দেখা যাচ্ছে। শিল্পপতিরা জমির দাম কমানোর আবেদন করলেও তাতে ডব্লিউবিএসআইডিসি কোনও কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের কেউই অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

আলিপুরদুয়ার চেম্বার্স অ্যান্ড কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, দুটি শিল্পকেন্দ্রের জন্য যখন জমির মূল্যায়ন করা হয় তখন আমরা দর কমানোর আবেদন করেছিলাম। আমাদের দাবি ছিল, এথেলবাড়িতে কাঠা প্রতি এক লক্ষের কম এবং জয়গাঁতে দেড় লক্ষ টাকা করা হোক। কিন্তু আবেদন করার সময় দেখা যাচ্ছে, আমাদের দাবি মানা হয়নি। উলটে জমির দাম কাঠা প্রতি প্রায় দ্বিগুণ রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুটি শিল্পকেন্দ্রেই অ্যাপ্রোচ রোডের সমস্যাও আছে। ফলে জেলার ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরা দুটি শিল্পকেন্দ্রেই শিল্প স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে শিল্পপতিরা জেলায় শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হবেন। জেলা শিল্প বিকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার বিভাস বসু বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা জেলার দুটি শিল্পতালুককে ডব্লিউবিএসআইডিসির হাতে তুলে দিয়েছি। তারাই এখন শিল্পকেন্দ্রের যাবতীয় কাজ করছে। তাই তারাই জমির দর, বরাদ্দ সহ যাবতীয় বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। জেলার শিল্পতালুকের বিষয়ে ডব্লিউবিএসআইডিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পি মোহন গান্ধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারে শিল্প স্থাপনের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। দ্রুত জেলায় শিল্পতালুক গড়তে ২০১৭ সালে তিনি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এরপরই প্রশাসন জেলার বিভিন্ন জায়গায় জমি খোঁজাও শুরু করে। প্রশাসন ওই সময় ফালাকাটা ব্লকের এথেলবাড়ি ও জয়গাঁয় শিল্প স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করে। এথেলবাড়িতে ৫০ একর ও জয়গাঁতে ৩০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। জমি চিহ্নিতকরণের পর দুই জায়গাতেই শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুটি শিল্পতালুকেই সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়। মাটি ফেলে শিল্পতালুকের অবস্থা ভালো করা হয়। তবে অভিযোগ, শিল্পতালুক দুটি এতদিন এই অবস্থাতেই পড়ে ছিল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হতে শুরু করে। এরমধ্যেই গত জানুয়ারিতে প্রশাসন শিল্পতালুক দুটিতে জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়।

আলিপুরদুয়ার জেলা শিল্প বিকাশ কেন্দ্র সূত্রে খবর, এথেলবাড়িতে ৫০ একর ও জয়গাঁতে ৩০ একর জমি শিল্পতালুক গড়তে প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। দপ্তরের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে আবেদন করা যাবে। যাঁরা প্রথমে আবেদন করবেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাঁদের জমির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে শিল্প স্থাপনে আগ্রহীরা যখন আবেদন করছেন তখন জানতে পারছেন, দুটি শিল্পকেন্দ্রের জন্য জমির দর আলাদা দিতে হচ্ছে। এথেলবাড়িতে জমির যে দর, জয়গাঁতে সেই দর দ্বিগুণ। এথেলবাড়ি শিল্পতালুকে এক কাঠা জমির দর দেড় লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে। আর জয়গাঁতে এক কাঠা জমির দর আড়াই লক্ষ টাকা। জমির এই দাম যখন ঠিক করা হয় তখনই তাতে আলিপুরদুয়ার জেলা চেম্বার্স অ্যান্ড কমার্স আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, জমির দাম কমানোর আবেদন করা সত্ত্বেও ডব্লিউবিএসআইডিসি তাতে কোনও কর্ণপাত করেনি।