জমির সমস্যায় ভেস্তে গিয়েছে পরিকল্পনা, দুর্বল সেতু নিয়ে দুশ্চিন্তা

296

উৎপল সেন, হেলাপাকড়ি: জমি নিয়ে সমস্যার কারণে হেলাপাকড়ির মিস্ত্রিপাড়ায় নতুন সেতু তৈরির পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। ফলে দুর্বল সেতু নিয়ে স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা বেড়ে গিয়েছে। হেলাপাকড়ি-জোড়পাকড়িগামী রাস্তায় মিস্ত্রিপাড়া এলাকার সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এই রাস্তা দিয়ে ছোটবড় প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। প্রায় ৩০ বছর আগে তৈরি হওয়ার পর থেকে সেতুটির কোনও সংস্কার হয়নি। ফলে সেতুর একাংশের রেলিং ভেঙে গিয়েছে। পিলার ও গার্ডওয়াল সহ সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। সিমেন্টের ঢালাই খসে লোহার রড বেরিয়ে মরচে পড়ছে। যে কোনও মুহূর্তে সেতু ভেঙে বিপদ ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত সেতু মেরামতের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

এলাকার বাসিন্দা ভবেশ রায় বলেন, স্থানীয় কয়েকটি গ্রাম ছাড়াও পদমতি-১, ধর্মপুর প্রভৃতি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। ছোটবড় প্রচুর যানবাহন চলে। মেখলিগঞ্জ ও চ্যাংড়াবান্ধা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সগুলি সোজা এই রাস্তায় দিয়ে যাতায়াত করে। পণ্যবোঝাই ট্রাক ও ডাম্পারের মত ভারী গাড়িও এই রাস্তায় চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে যা অবস্থা, তাতে যখন তখন সেতু ভেঙে বিপদ ঘটতে পারে। আরেক বাসিন্দা কলিন রায় বলেন, প্রায় ৩০ বছরের বেশি পুরোনো এই সেতুটি তৈরির হবার পর কোনওরকম মেরামত হয়নি। বর্তমানে এটি ভীষণই দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় অক্ষয় ঋষি বলেন, সেতুর একদিকের রেলিং ভেঙে গিয়েছে। রেলিং না থাকায় কিছুদিন আগে পরপর তিনজন সাইকেল সমেত নীচে পড়ে গিয়ে জখম হয়েছেন। স্থানীয়দের তরফে বহুদিন থেকেই সেতুটি মেরামতের দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু কোনও গুরুত্ব পাচ্ছে না।

- Advertisement -

অপর বাসিন্দা বিষ্ণু রায় বলেন, বছর দেড়েক আগে উত্তরবঙ্গ সংবাদে এনিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তৎপরতাও শুরু হয়েছিল। মাটি বিশেষজ্ঞরা এসে মাটি পরীক্ষা করে গেছেন। ইঞ্জিনিয়ারও এসেছিলেন। কিছুদিন আগে জেলাপরিষদের সদস্যা উর্মিলা রায়ও এসে সেতু পরিদর্শন করে গিয়েছেন। পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু তৈরির করার কথাও শুনা গিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও কিছুই হল না।

সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলাপরিষদ সদস্যা উর্মিলা রায় বলেন, গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পে সেখানে নতুন সেতু তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জমি নিয়ে সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। কারণ যে নালার উপরে পুরোনো সেতুটি রয়েছে, সেই নালার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়াররা আগে নালা সোজা করার পরামর্শ দিয়েছেন। নালা সোজা করার জন্য এলাকাবাসীর কাছে জমি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা দিতে রাজি ছিলেন না তাঁরা। তাই তখন কাজ করা যায়নি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচলা করার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জমি দিতে রাজি হলে পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে নতুন সেতু তৈরি করা হবে।

যদিও জমির মালিকদের বক্তব্য, চাষের জমি নষ্ট করে নালা তৈরি করা হবে। কিন্তু জমির কোনও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না। তাই তাঁরা জমি দিতে হননি। তবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে তাঁদের আপত্তি থাকবে না।