বেসরকারি হাসপাতাল তৈরির জন্য জমি ভরাটকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র

216

আসানসোল, ২২ অগাস্টঃ নিজেদের না হওয়া সত্বেও, নিজেদের জমি দাবি করে আসল জমির অংশীদার ও জমি ভরাটের কাজ করা কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। রবিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের রানিগঞ্জ থানার ২ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া রানিসায়ের মোড়ের জোড়া মন্দির এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। লাঠি নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে জমির ২ অংশীদার, জমি সমান করার কাজের দায়িত্বে থাকা ডেভলপার সহ মোট ৬ জনকে। জখমদের মধ্যে জমির অংশীদার ধনঞ্জয় তফাদার ও রুপক তফাদর নামে ২ জন একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তীর-ধনুক, কুড়ুল নিয়ে হামলা চালানোর পরে বিক্ষোভ দেখান আদিবাসী মহিলা ও পুরুষরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানিগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। জমির মালিক ও যে সংস্থা জমির সমান করার কাজ করছে, তাঁদের তরফে এই হামলার ঘটনার কথা জানিয়ে, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে রানিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও, এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, রানিসায়ের মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি সংস্থা হাসপাতাল তৈরীর জন্য ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ৫ বিঘা জমি কিনেছে। গত কয়েকদিন ধরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে, সেই জমি সমান করার কাজ করছে একটি সংস্থা। জমি মাফিয়া তাঁদের জমি দখল করছে, এই অভিযোগ তুলে আদিবাসীরা এদিন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন।

- Advertisement -

জমির মালিকরা এলাকায় পৌঁছালে আদিবাসী মহিলারা লাঠি, কুড়ুল, বাঁশ, তীর-ধনুক নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জমি সমান কাজের জন্য তৈরি করা ২টি অস্থায়ী ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মাটিতে ফলে বেধড়ক মারধর করা হয় ৬ জনকে। আদিবাসীরা এদিন অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারে, তাঁদের গ্রামের পাশে জলাশয় ও একটি বাঁধ ভরাট করছিল জমি মাফিয়ারা। প্রতিবাদ করতে গেলে জমি মাফিয়ারা হুমকি দিয়েছিল। পুলিশ, বিডিও এবং জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। তাই, এদিন তাঁরা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন।

জমি মালিকদের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের নিজস্ব মালিকানাধীন ওই জমি। তাঁরা আদিবাসীদের জমি দখল করেননি। আদিবাসীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, পরাগ বন্দোপাধ্যায় বলেন, কোনও বাঁধ এবং জলাশয় ভরাট করা হয়নি। এই জমি নিয়ে একটি অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছিল। পরে, গত ২৭ জুলাই জমি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে তদন্ত করা হয়। সব কিছু খতিয়ে দেখার পরে, জেলা প্রশাসন কাজ শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন। এরপরই কাজ শুরু করা হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের কাজে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রানিগঞ্জ শহরের কনভেনর রুপেশ যাদব বলেন, কোনও অন্যায় কাজ বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।