লকডাউনেও পানিট্যাঙ্কিতে সক্রিয় জমির সিন্ডিকেট

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : খড়িবাড়ি ব্লকের ভারত-নেপাল সীমান্তে পানিট্যাঙ্কিতে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লকডাউনের সুযোগে বিতর্কিত জায়গায় বেশ কিছুদিন ধরে প্লটিং শুরু হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে নজর দিচ্ছে না বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। খড়িবাড়ি ব্লকের ভূমি এবং ভূমি সংস্কার আধিকারিক শুভ্রজিৎ মজুমদার বলেন, পানিট্যাঙ্কির চা বাগানে ৭.৯২ একর জমি নবান্ন থেকে একটি বেসরকারি সংস্থাকে লিজ দিয়েছে। তবে জমি হস্তান্তরের কোনও চিঠি এখনও অবধি আমাদের কাছে আসেনি। আমি সেখানে নির্মাণকাজ বন্ধের আদেশ দিয়েছি। পুলিশ, প্রশাসন এবং বিডিওকে এই নির্মাণ বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হবে। পুরো টাকা জমা দেওয়ার পরেই সেখানে নির্মাণ শুরু করা য়াবে।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিট্যাঙ্কিতে গণ্ডগোল এবং উত্তর রামধন মৌজার ৭.৯২ একর জমি সাড়ে দশ কোটি টাকার বিনিময়ে রাজ্য সরকার পানিট্যাঙ্কি মেচি মার্কেট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থাকে লিজ দিয়েছে। বিনিময়ে এই সংস্থা প্রতিবছর প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারকে সেলামি দেবে বলে নির্দেশিকা রয়েছে। কিন্তু সাড়ে দশ কোটি টাকার রাজস্ব না দিয়ে সংস্থাটি পানিট্যাঙ্কিতে উড়ালপুলের নীচে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, সিন্ডিকেটের লোকজন পানিট্যাঙ্কি বাজারে চা বাগানের বিতর্কিত জমির পাশেই জমি প্লটিং করে রাস্তা তৈরি, দোতলা ভবন তৈরির কাজও শুরু করেছে। এলাকায় প্রতিদিনই প্রশাসনের নাকের ডগায় দালালদের ভিড় বাড়ছে। সরকারি চা বাগানের জায়গা দখল করে ১১টি দোকানঘর ও সাতটি পাকা রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে, এলাকার প্রায় ২০ বিঘা জমির উপর মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির জন্য নির্মাণসামগ্রী ফেলার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রাজস্বের টাকা জমা না করেই নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পানিট্যাঙ্কি মেচি মার্কেট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হান্দ্রু ওরাওঁ বলেন, এখনও অবধি আমরা চার কোটি টাকা রাজস্ব জমা করেছি। বাকিটাও আমরা শীঘ্রই জমা করব। দার্জিলিং জেলার ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্তের মোবাইল সুইচড অফ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা য়ায়নি। যদিও দার্জিলিং জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক নিখিল ঈশ্বরারী বলেন, স্থানীয় প্রশাসনই ব্যবস্থা নেবে। আমি এই বিষয়ে কিছু করতে পারব না। দার্জিলিংয়ে জেলা শাসক এস পন্নমবলম বলেন, পানিট্যাঙ্কিতে রাজস্বের টাকা জমা না করেই অবৈধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যথারীতি ব্যবস্থা নেব।