নকশালবাড়িতে পূর্ত দপ্তরের জমি বেদখল, অবাধে তৈরি হচ্ছে বহুতল, পাকাবাড়ি

277

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : অবাধে পূর্ত দপ্তরের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে নকশালবাড়িতে। এমনকি নকশালবাড়ি পানিঘাটা মোড়, বাসস্ট্যান্ড, কংগ্রেস ভবনের পাশে, ঘাটানি মোড় এলাকায় দখল হওয়া পূর্ত দপ্তরের জমিতে গড়ে উঠছে পাকাবাড়ি, মার্কেট কমপ্লেক্স। বহুতল নির্মাণও শুরু হয়ে গিয়েছে কয়েকটি ক্ষেত্রে। কিন্তু এইসব জমি উদ্ধারে পূর্ত দপ্তরের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

নকশালবাড়ি এশিয়ান  হাইওয়ে-২ এর পাশে সাতভাইয়া মোড় থেকে পূর্ত দপ্তরের একটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নকশালবাড়ি বাজার হয়ে রথখোলা রেলগেটে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে মিশেছে। এই ব্যস্ততম রাস্তার পাশেই চারটি হাইস্কুল, অসংখ্য প্রাইমারি স্কুল সহ নকশালবাড়ি বাজার, বাসস্ট্যান্ড, নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, নকশালবাড়ি মার্কেট কমপ্লেক্স রয়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য সরকারি কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী  ও ছাত্রছাত্রী এশিয়ান হাইওয়ে-২ এর বিকল্প হিসেবে এই রাস্তাই ব্যবহার করেন। ফলে প্রতিদিনই এই রাস্তায় ছোটো-বড়ো গাড়ির ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তা অপ্রশস্ত হয়ে গিয়েছে। এর ফলে নকশালবাড়ি বাজার হয়ে কোনো সরকারি বাস যাতায়াত করতে পারে না। ফলে ভরসা বেসরকারি যানবাহন। অপরিসর রাস্তার উপর সারি সারি যানবাহন দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে। বাড়ছে যানজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা। একই অবস্থা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নকশালবাড়ির পাঁচতলা মার্কেট কমপ্লেক্সের। এই মার্কেট কমপ্লেক্সের সামনেই রয়েছে পূর্ত দপ্তরের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন যা দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। আর এই এলাকায় পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে দোকান তৈরি করা হয়েছে এবং এই সব দোকান লক্ষ লক্ষ টাকায় হাতবদল হচ্ছে। নকশালবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে তৈরি একটি দোকান ৭০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কংগ্রেস ভবনের পাশেই পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে তৈরি হচ্ছে বহুতল। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নকশালবাড়ি ঘাটানি মোড় এলাকায় পূর্ত দপ্তরের জায়গায় মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে দোকানগুলি লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের লোক জড়িত।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গৌতম পাল বলেন, আমরা নকশালবাড়িতে পূর্ত দপ্তরের জায়গাতে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার জন্য একটি এস্টিমেট এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়েছি। কিন্তু এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এখনও এই এস্টিমেট পাস করেননি। যার ফলে জায়গাগুলি সেখানে দখল হচ্ছে। তাছাড়া আমরা পূর্ত দপ্তরের জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ নকশালবাড়ি পুলিশকে দিয়েছি। তারা সহযোগিতা না করলে আমরা কিছুই করতে পারব না।  শিলিগুড়ির পূর্ত দপ্তরের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চন্দনকুমার ঝা এই বিষয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাননি। দার্জিলিংয়ে জেলাশাসক দীপাপ প্রিয়া পি বলেন, যেহেতু জায়গাটি পূর্ত দপ্তরের তাই এক্ষেত্রে আমরা কিছু বলতে পারব না।