টাঙন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গাজোল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা

1572

গাজোল: লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফুলে ফেঁপে উঠেছে টাঙন নদী। নদীর বাঁধ ভেঙেছে গাজোল ব্লকের চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কদুবাড়ি গ্রামে। বুধবার রাতে বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে জল ঢুকতে থাকে এলাকায়। নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে চাকনগর এবং সালাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের তলায় চলে গিয়েছে হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি। নদীর জলে ডুবেছে বহু বাড়িঘরও। সবকিছু হারিয়ে সরকারের কাছে ত্রাণের আবেদন জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি অবিলম্বে বাঁধ মেরামতের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বিডিও উষ্ণতা মোক্তান। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাধুচরণ সরকারও। বাঁধের ভাঙা অংশ ছাড়াও নদীর জলে প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন তাঁরা। সূত্র মারফত এই খবর জানা গেলেও মোবাইল টাওয়ার না থাকায় বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের তরফে ভাঙন পীড়িতদের জন্য আপাতত ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

বুধবার রাত ১২টা নাগাদ জলের প্রবল চাপে ভেঙে যায় টাঙন নদীর বাঁধ। চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কদুবাড়ি গ্রামে বাঁধের প্রায় ৫০-৬০ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে নদীর জল ঢুকতে থাকে এলাকায়। ধীরে ধীরে প্লাবিত হতে শুরু করে চাকনগর এবং সালাই ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের তলায় চলে যায় চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কদুবাড়ি, ডোবা খোকসান, বৈরডাঙ্গি, মাথা মোড়া, পিড়ালু তলা, কৃষ্ণনগর সহ বিভিন্ন গ্রাম। অন্যদিকে, ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের গারাধুল, মহাদেবপুর, পোলাডাঙা, ইমামনগর, জোতভৈরব, মোদাফত হবিনগর, ল্যাংড়া শিমুল সহ বিভিন্ন গ্রাম। এই সমস্ত গ্রামের চাষের জমি এবং বাড়িঘর চলে যায় জলের তলায়।

স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘প্রায় বছর দুয়েক ধরে এই নদী বাঁধের সংস্কার হয়নি। বাঁধের যেসব জায়গা দুর্বল ছিল বলে আমরা বলেছিলাম সেইসব জায়গায় অন্ততপক্ষে বাঁশ দিয়ে পাইলিং করা হোক। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। গতকাল রাতে বাঁধ ভেঙে যায়। প্রবল বেগে ঢুকতে থাকে নদীর জল। নদীর জলে তলিয়ে গিয়েছে হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি।’ জানা গিয়েছে, বহু বাড়ি ঘর ও চলে গিয়েছে জলের তলায়। যার ফলে চরম ক্ষতি হয়েছে এলাকার কৃষক সহ সাধারণ মানুষের। অনেকেরই ঘরে খাবার নেই। এলাকাবাসী চাইছেন সরকার অবিলম্বে ত্রাণের ব্যবস্থা করুক। এছাড়াও মেরামত করা হোক বাঁধের ভাঙা অংশ।