শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে শালকুমারহাট ও পলাশবাড়িতে

237

শালকুমারহাট: শালকুমারহাট ও পলাশবাড়িতে এখন দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। কুমোরটুলিতেও শিল্পীরা ব্যস্ত ফিনিশিং টাচ দিতে। ছোট বড় মিলিয়ে শালকুমারহাট ও পলাশবাড়িতে এবার প্রায় কুড়িটি দুর্গাপুজো হচ্ছে।

এই এলাকায় রাজবংশী, মেচ, রাভা, গারো, নেপালি, আদিবাসী, মুসলিম সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। পুজোর সময় সম্প্রীতির এক অনন্য নজির তৈরি হয় এইসব গ্রামে। জাঁকজমক না থাকলেও নিয়মনিষ্ঠাই শালকুমারহাটের পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য।

- Advertisement -

শালকুমারহাট এলাকায় এবার পুজোর সংখ্যা ১৩। এরমধ্যে শালকুমারহাটের মহাকালধামের পুজো শতাব্দী প্রাচীণ। এই পুজো এবার ১২৬তম বছর। এখানে হাইকোর্টের রায় মেনেই পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এবার নবমীতে দুঃস্থ বাসিন্দাদের অন্নদান করা হবে।

এছাড়া জলদাপাড়ার নতুনপাড়ার পুজো পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে। স্থানীয় মন্দিরেই প্রস্তুতি চলছে। শালকুমারহাট বাজারের পাশে মহিলা পরিচালিত পুজোর প্রস্তুতিও তুঙ্গে। শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপালিটারিতে নেপালি পুরোহিত দুর্গা পুজো করেন৷ সুরিপাড়া, কালীবাড়ি, অযোধ্যানগর, সিধাবাড়ি এলাকাতেও নিষ্ঠা সহকারে বেশ কিছু সর্বজনীন দুর্গাপুজো হয়। এবার জৌলুস কম থাকলেও প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই। গ্রামীণ এলাকার পুজো, তাই মহাষষ্ঠীর রাতেই মন্দিরে মন্দিরে প্রবেশ করবে দেবী দুর্গা।

এদিকে গ্রামীণ জনপদ হলেও পলাশবাড়িতে প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় ভাল আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার কোনও বিগ বাজেটের পুজো হচ্ছেনা। নিউ পলাশবাড়ির পঞ্চানন স্মৃতি সংঘের পুজোয় মনীষী পঞ্চানন বর্মাকে স্মরণ করা হবে। উদয়ন ক্লাবের পুজোয় এবার সমাজসেবামূলক কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব ও নিউরোডের কিশোর সংঘের পুজো হচ্ছে মহাসড়কের জমিতে।

এবারই শেষ পুজো ধরে নিয়ে উদ্যোক্তারা ঝাপিয়ে পড়েছেন। মেজবিল ও পারপাতলাখাওয়ায় দুটি মহিলা পরিচালিত পুজো রয়েছে। হেঁসেল সামলে এই পুজোর জন্য মহিলাদের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিলবাড়িহাটের বারোয়ারি পুজো অনেক পুরোনো। এই পুজো করেন স্থানীয় প্রবীণ ও ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বারোয়ারি পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শালকুমারহাট ও পলাশবাড়ি এলাকার কুমোরটুলিতেও শিল্পীরা এখন চরম ব্যস্ত। বিধিনিষেধ থাকলেও এই দুই এলাকার পুজোয় যে হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠবেন তা বোঝাই যাচ্ছে।