আইনজীবীকে হেনস্তার প্রতিবাদে আদালতে কর্মবিরতি

300

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ জেলা আদালতের এক আইনজীবীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠল কিছু সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এরই প্রতিবাদে বুধবার রায়গঞ্জ জেলা আদালতে কর্মবিরতি পালন করলেন আইনজীবীরা। পাশাপাশি ওই সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আজ আদালতে বিক্ষোভ দেখান তারা। বার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, ওই কর্মচারীরা আইনজীবীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও অভব্য আচরণ করেন।তাকে দপ্তরে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে আজ উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতের সমস্তরকম কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দেয় তারা। রায়গঞ্জ জেলা আদালতের শুভজিৎ দে নামে ওই আইনজীবী বুধবার কর্ণজোড়ায় ডিস্ট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার দপ্তরের আধিকারিকের কাছে একটি কাজে গেলে তাঁকে আধিকারিকের ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

- Advertisement -

তিনি নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দেওয়ার পরেও দপ্তরের কর্মীরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অভব্য আচরণ করে বলে অভিযোগ। জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুব্রত বসাক বলেন, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। একজন আইনজীবীকে যে ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আজ আমরা কর্মবিরতি পালন করেছি।

আক্রান্ত আইনজীবী শুভ্রজিৎ দে বলেন, ওই দপ্তরের এক আধিকারিকের কাছে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের বিষয়ে একটি অভিযোগ জানিয়েছিলাম। ওই আধিকারিকের অনুমতি নিয়ে তাঁর রুমে যাই। সেসময় ওই রুমে পিছন দিকে যারা ছিলেন তারা আমাকে হেনস্তা করেন। একজন আমার ড্রেস কোড নিয়ে বলেন, ছবি তুলে ভাইরাল করে দেব। আমি বলি, করোনা আবহে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আছে কালো প্যান্ট ও সাদা জামা পড়লেই হবে, কোর্ট না পড়লেও চলবে। কিন্ত ওই কর্মী তা মানতে রাজি হননি।

তাঁর আরও অভিযোগ, আরেক কর্মী বলেন, উকিল না কোকিল বুঝি না অফিস থেকে বের হয়ে যেতে হবে।শুভ্রজিৎবাবু বলেন, সরকারি কর্মীদের এই ধরনের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। বিষয়টি বার অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছি। অন্যদিকে, ওই আধিকারিক এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাউকেই হেনস্তা করা হয়নি। ঘটনাটি কিছুই না। যেহেতু কোভিড পরিস্থিতি তাই আমার ঘরে আমি সহ ৬ জন ছিল। আমি একবার বাইরে গিয়েছিলাম, সেইসময় উনি আমার সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, আমি তাঁকে বলেছিলাম ভিতরে অনেক ভিড় আছে, ফাঁকা হলে আপনাকে ডেকে নেব। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তবে তিনি আমার সঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়েন। গেটের সামনে থাকা এক কর্মী ওনাকে বলেন, ভিতরে অনেক ভিড় আছে, তাই একটু পড়ে আসুন। এতেই ওনার সেন্টিমেন্ট লেগে গিয়েছে। কেউ কোনও অপমান করেনি। তিনি বলেন, এরপর ওনারা ৫০ থেকে ৬০ জন এসে আমাদের বড়বাবুকে শাসিয়ে গিয়েছে। রীতিমত হেনস্তা করেছেন। বিষয়টি এডিএমকে জানানো হয়েছে। ওনারা অভিযোগ করেছেন কিনা জানা নেই। তবে বৃহস্পতিবার আমরা অভিযোগ জানাব।