খোঁজ নেন না নেতারা, ক্ষোভ ফুঁসছেন ভুটানে আটকে থাকা শ্রমিকরা 

330

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: ওঁরা শুধু ভোটব্যাংকের একটা সংখ্যা মাত্র। তাই ভোট এলেই খোঁজ পড়ে ওঁদের। দিনের পর দিন ভুটানে আটকে থেকে হাড়ে হাড়ে একথা উপলব্ধি করছেন জলপাইগুড়ি জেলার ঝাঝাঙ্গি এলাকার বাসিন্দা সুকুমার রায়।

সাত মাস আগে ভুটানে শ্রমিকের কাজ করতে যান তিনি। কিন্তু প্রায় আড়াই মাস ধরে লকডাউন চলার জন্য বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না তিনি। বৃহস্পতিবার ভুটানের ধুপসারি থেকে তিনি টেলিফোনে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-কে বলেন, “ভোটের আগে আমাদের বাড়ি ফেরার সব ব্যবস্থা করেন পঞ্চায়েত, নেতা ও প্রার্থীরা। কিন্তু এখন যে এত বড় বিপদে পড়ে আছি, তা জেনেও কেউ একবার ফোন পর্যন্ত করছে না।”

- Advertisement -

ভুটানের পারো থেকে মোবাইল ফোনে ঠিক একই কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ ঝরে পড়ল আলিপুরদুয়ার জেলার শালকুমারহাটের বাসিন্দা উৎপল রায়ের কণ্ঠে। তিনি বলেন “পঞ্চায়েত সদস্য ফোন করেছিল ভোটের আগে। কিন্তু এখন আর কোনও নেতা, পঞ্চায়েত সদস্য ফোন করে না। মালিক বলছে, গেট খুললেই আমাদের দেশে পাঠাবে। কিন্তু গেট কবে খুলবে তা তো জানা নেই। আমরা ছটফট করছি বিদেশে। অথচ, আমাদের কথা কেউ ভাবছে না।”

শালকুমারহাটের পরিমল রায় ভুটানের থিম্পু থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, “আমরা আটকে রয়েছি। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে আমাদের আবেদনপত্র জমা দিতে বলার পাশাপাশি এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কবে দেওয়া হয়েছে যে কবে আমাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সবটাই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এখন তো নেতা, পঞ্চায়েত সদস্যরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। তাই আমরাই আলিপুরদুয়ারের এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

মাদারিহাটের খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজিপাড়া কোনাপাড়ার প্রাক্তন সদস্য জবাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি দলের পদে নেই। পঞ্চায়েত সদস্যও নই। তবুও ভুটানে আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তবে, কোয়ারান্টিনে থাকার ভয়ে অনেকেই দেশে ফিরতে চাইছেন না।” তৃণমূলের মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক কোর কমিটির সদস্য তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, “বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের গেরো রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দল ও রাজ্য সরকারের তরফে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে কিছু শ্রমিক ভুটান থেকে ফিরেছেন। পরের ধাপে ইচ্ছুকদের অনেককেই দেশে ফেরানো হবে।”