ভালো কাঁচা পাতা বাছতে যন্ত্র বসছে চা কারখানায়

শুভজিৎ দত্ত নাগরাকাটা : আর আন্দাজে বা হাতেকলমে গণনা নয়। ফ্যাক্টরিতে বসানো অত্যাধুনিক যন্ত্র বলে দিচ্ছে বাগান থেকে তুলে আনা কাঁচা পাতার কত শতাংশ উৎপাদনে ব্যবহারের যোগ্য বা ফাইন লিফ। চা শিল্পের উন্নয়নে এমনই অভিনব প্রযুক্তি হাজির করেছে চা গবেষণা সংস্থা (টিআরএ)। তাদের সঙ্গে এজিনেক্সট নামে একটি প্রযুক্তিগত সংস্থা যৌথভাবে কাজটি করেছে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গ ও অসমের কিছু বড় বাগান ও জলপাইগুড়ির ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালিত ফ্যাক্টরিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ওই যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। টিআরএর সম্পাদক জয়দীপ ফুকন বলেন, ফাইন লিফ গণনার বিষয়টি ভালো মানের চা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এর সাথে ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাঁচা পাতার ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তিও নির্ভর করে। সমস্ত দিক থেকে নয়া যন্ত্র চা শিল্পের ইতিহাসে মাইলস্টোন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলেই মনে করি।

টিআরএ জানিয়েছে, কাঁচা পাতার মান নির্ধারণে সেন্সর নির্ভর এই যন্ত্রে বিশেষ সফটওয়্যার রয়েছে। নয়া যন্ত্রের একপাশে কাঁচা পাতা ঢুকিয়ে দিলে নিজে নিজেই তাতে ভালো মানের পাতার পরিমাণ ঠিক কত শতাংশ তা ডিজিটালি গণনা হয়ে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে আসবে। গুডরিক গ্রুপ তাদের জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে যন্ত্রটির ব্যবহার শুরু করেছে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের পরিচালিত ময়নাগুড়ির জয় জল্পেশ ফ্যাক্টরির পর তাদের পানবাড়ির আরেকটি ফ্যাক্টরিতে ওই যন্ত্র বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাগান থেকে কাঁচা পাতা ফ্যাক্টরিতে আসার পর সেগুলির মান যাচাইয়ে যে দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে, তা সময়সাপেক্ষ ও ম্যানুয়াল। চা বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি পাতা একটি কুঁড়ি থেকেই চা তৈরি করা উচিত। নিদেনপক্ষে তিনটি পাতা একটি কুঁড়িও চলনসই। সারাদিনে কোনও বাগান থেকে কয়েক হাজার কিলোগ্রাম কাঁচা পাতা ফ্যাক্টরিতে আসে। তাতে মেশানো থাকে বহু অবাঞ্ছিত পাতাও। যা ধরতে পারা যায় না।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, বাগান থেকে তুলে আনা ১০০ গ্রাম কাঁচা পাতার কতটা ভালো মানের, তা নির্ণয় করতে হাতেকলমে সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট। সেখানে নয়া যন্ত্র দুমিনিটে ১ কিলোগ্রাম কাঁচা পাতা নিয়ে এই কাজ করছে। পাতার ভেজাভাব দূর করার জন্য যন্ত্রের মধ্যেই ড্রায়ার রয়েছে। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিস্টা) সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, যন্ত্রের ফলে পাতার মান নিয়ে বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান হবে। এটা যাতে টি বোর্ড বাধ্যতামূলক করে- এমন দাবির কথা জানানো হয়েছে। এজিনেক্সট-এর প্রধান তথা খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তনী তরণজিৎ ভামরা টিআরএর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এই যন্ত্র আবিষ্কারের কাজ করেছেন।