১৯৩ আসনে ঐক্যমত বাম-কংগ্রেসের, বাকি আসন নিয়ে কথা ফেব্রুয়ারিতে

147

কলকাতা: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রণকৌশল তৈরির পাশাপাশি প্রার্থী বাছাই পর্বও শুরু হয়ে গিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক শিবিরে। সেই দৌড়ে খানিক এগিয়ে থাকতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের রাজ্য দপ্তর বিধান ভবনে আসন সমঝোতায় বৈঠক সারল বাম-কংগ্রেস। বৈঠক ফলপ্রসু হয়। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৯৩টি আসন নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছোতে পেরেছে বাম ও কংগ্রেস। এই ১৯৩টি আসনের মধ্যে বামেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ১০১টি আসনে। কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৯২টি আসনে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাকি ১০১টি আসন নিয়ে সমঝোতা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে এদিন জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তাঁরা জানান, এবারের নির্বাচনে আসন সমঝোতা সম্পন্ন করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনের মতো কোনও আসনেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাঁরা রাজি নন।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা হলেও মালদা ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছোতে পারেনি। যার ফলে বেশকিছু আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। এবার যাতে সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামল তাঁরা। এদিনের বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিমানবাবু এবং অধীরবাবু জানান, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিগেড সমাবেশ। সেই ব্রিগেড সমাবেশে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি যেমন থাকবেন তেমনই থাকার কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর। তাঁদের দু’জনের মতেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি তাদের মূল শত্রু, অপরদিকে এরাজ্যে তাদের শত্রু হল তৃণমূল। কারণ বিজেপিকে হাতে ধরে এরাজ্যে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেসে।

- Advertisement -

তাঁদের বাম ও কংগ্রেসের জোট হবে এরাজ্যে তৃতীয় বৃহত্তম জোট। আর তাই তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী অন্যান্য দল ও সংগঠনগুলিকে তাদের জোটে সামিল হওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিন এক প্রশ্নের উত্তরে অধীরবাবু জানান, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল-বিজেপি এক বিষাক্ত হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছে। এর মূল কারণ, রাজ্যবাসীর মূল চাহিদার দৃষ্টি ঘোরানো এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করা। এ থেকে মুক্তি পেতে  রাজ্যবাসীকে তাদের জোটের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা জানান, বিজেপি সবসময়ই ধর্মব্যবসায়ী। তাই নির্বাচন এলেই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা শুরু করে তারা।

উল্লেখ্য, এদিন বাম ও কংগ্রেস বৈঠকের আগেই প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে বসেছিল আভ্যন্তরীণ বৈঠক। সেই বৈঠকের ব্যাপারে অধীরবাবুরা কেউ কোনও প্রকার মুখ না খুললেও বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ১১০টি আসন পেলেই কংগ্রেস খুশি হবে এবং জোট গঠিত হবে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। আর এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১৫০-১৬০টি আসন দাবি করা হয়েছিল। দফায় দফায় বৈঠকে বসে মোটামুটিভাবে একটা সমঝোতার পথে আসার চেষ্টা চালান হয়েছিল। এদিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে জোটের স্বাথে ১১০টি আসন পেলেই তারা খুশি।

অন্যদিকে, ২৬ জানুয়ারি লালকেল্লার সামনে আন্দোলনরত কৃষকদের মিছিল লালকেল্লার সামনে চলে যাওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অধীরবাবু ও বিমানবাবু জানান, এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ইন্টেলিজেন্স বিভাগ দায়ী। কারণ তাদের মতে ট্রাক্টর মিছিল সেখানে না পৌঁছে অন্য কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। এর দায় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির পুলিশ বাহিনীকে নিতে হবে বলেও তাঁরা জানান।