ফালাকাটায় পদ্মের কাঁটা হতে পারে বামেরা

485

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটায় সিপিএম প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি। একসময় সিপিএমের বেদখল ও ভাঙচুর হয়ে যাওয়া পার্টি অফিস পুনর্দখল হচ্ছে। পার্টি অফিসকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সিপিএমের নানা কর্মসূচিতেও ফালাকাটায় ব্যাপক সাড়া পড়ছে। বামফ্রন্ট কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও ফালাকাটার মানুষের একাংশ বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে ফের সিপিএমের দিকেই ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে ক্ষয়িষ্ণু বামেরাই বিধানসভা নির্বাচনে পদ্মের কাঁটা হতে পারে বলে আশঙ্কা বিজেপির। এদিকে বিজেপিকে রুখতে সিপিএম জেগে উঠুক, এমনটা চাইছে তৃণমূলও। যদিও প্রকাশ্যে সিপিএমের এই উত্থানকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিজেপি। সিপিএম এখন অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক দল বলেই বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন।

বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের রাজত্বে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। আবার ২০১১ সালের পর তৃণমূল কংগ্রেসেরও মজবুত সংগঠন গড়ে ওঠে ফালাকাটায়। তবে ২০১৮-এর পঞ্চায়েত ও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের নীচুস্তরের অধিকাংশ ভোট চলে যায় বিজেপিতে। তাই এখন শক্তি বাড়ার পাশাপাশি বিজেপির সংগঠনও এখানে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ফালাকাটায় সিপিএমের একাধিক সফল কর্মসূচি বিজেপির দুঃশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। গত ২৬ নভেম্বর বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে ফালাকাটায় ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। ওই ধর্মঘটের সমর্থনে বিশাল মিছিলও করেছিল সিপিএম। ৮ ডিসেম্বর কৃষক আন্দোলনের সমর্থনেও সিপিএমের বড় মিছিল হয়। এরপর এই বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের তরফে ধারাবাহিকভাবে ৫০টি পথসভাও করা হয়। কেন্দ্রের কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অঞ্চলে অঞ্চলে বামপন্থী কৃষক সংগঠনের জাঠা কর্মসূচি পালিত হয়। বামপন্থী ছাত্র-যুবরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এসএফআইয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত ৩ জানুয়ারি ফালাকাটায় প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-যুবদের ঢল নেমেছিল। এতে খানিকটা উজ্জীবিত হয়ে এখন পার্টি অফিসের দিকে নজর দিচ্ছে সিপিএম। অভিযোগ, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ফালাকাটার পাঁচ মাইলে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সম্প্রতি সেই পার্টি অফিস পুনর্দখল করে ঢেলে সাজাচ্ছে সিপিএম। অন্যান্য জায়গাতেও বন্ধ হওয়া পার্টি অফিস খোলা হচ্ছে। এখন সিপিএমের কর্মসূচিগুলিতে তৃণমূলের তরফে কোনও বাধাও আসছে না। তাই সিপিএম কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে বিজেপিতে চলে যাওয়া বাম ভোট এবার ফিরে আসবে বলে মনে করছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদক মৃণালকান্তি রায় বলেন, আমাদের ভোটারদের একটা অংশ তৃণমূলকে শায়েস্তা করার জন্য বিজেপিতে গিয়েছিল। এখন তো তৃণমূলের অত্যাচারীরা বিজেপির মুখ। শুধু ফুলের পরিবর্তন হচ্ছে। তাই সাধারণ ভোটারদের মনের কথা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হবে। ফালাকাটায় আমাদের ফলাফল ভালো হবে। কারণ এখানে আমাদের যে কোনও কর্মসূচিতে মানুষ এখন বেশি করে শামিল হচ্ছেন। ভোট ঘোষণা হলে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়বে। তবে সিপিএমের এই সক্রিয়তায় খুশি হচ্ছে তৃণমূল। দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, সিপিএমই খাল কেটে কুমির এনেছে। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সিপিএম এখন সংগঠন ধরে রাখুক, এটা আমরাও চাই। যদিও এক্ষেত্রে কোনও দুশ্চিন্তার কথা মানতে চায়নি বিজেপি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, সিপিএম এখন অপ্রাসঙ্গিক দল। ওরা কোথাও একবার ক্ষমতাচ্যুত হলে আর ফিরে আসতে পারে না। আর সাধারণ ভোটাররা কারও কেনা গোলাম নন। যাঁরা আগে আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন। আমরা মানুষের পাশে আছি।