কানায় কানায় ভরল ব্রিগেড, তাল কাটল জোটে

74

কলকাতা: রবিবার বাম-কংগ্রেসের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে জমায়েত দেখে উজ্জীবিত জোটের নেতারা। সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। ভিড় ঠিকঠাক হলেও আব্বাস মঞ্চে উঠতেই তাল কাটল জোটে।

আইএসএফ-এর প্রধান যখন মঞ্চে আসেন সেই সময় ভাষণ দিচ্ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। আর অধীরবাবু তাঁর ভাষণে বিজেপি-তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করছিলেন।

- Advertisement -

সেসময় আব্বাস সিদ্দিকী মঞ্চে উঠতেই মহম্মদ সেলিম সহ বামফ্রন্টের স্থানীয় প্রায় সব নেতা তাঁকে স্বাগত জানাতে ও তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আব্বাসকে নিয়ে বাম নেতাদের আদিখ্যেতা দেখে ক্ষুব্ধ অধীর তাঁর ভাষণ থামিয়ে বসে পড়েন। একসময় তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে উদ্যোগী হলে বিমান বসুকে তাঁর হাত ধরে ফেলতে দেখা যায়। তিনি অধীরের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হন। বিষয়টি আব্বাসেরও নজরে পড়ে। তাঁকেও অধীরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কিছু বলতে দেখা যায়। এরপর অধীর ফের ভাষণ শুরু করেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ভাষণ শেষ করে বসে পড়েন।

অধীরবাবুর পরই বক্তব্য রাখার ডাক পড়ে আব্বাসের। তিনি তাঁর ভাষণে একবারের জন্যও কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ না করে বাম নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, যেখানে যেখানে বামপন্থীরা দাঁড়াবেন সেখানে তাঁদের জেতানোর জন্য তিনি ও তাঁর দলের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাবেন। এক্ষেত্রেও তাঁকে কংগ্রেসের নাম উল্লেখ করতে শোনা যায়নি।

প্রসঙ্গত, আব্বাস সিদ্দিকীর দাবি অনুযায়ী বামেরা তাদের কোটা থেকে আব্বাসের দলকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হলেও কংগ্রেসের সঙ্গে আইএসএফ-এর আসন রফা এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, আইএসএফ-এর তরফে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের যেসব আসনগুলি দাবি করা হয়েছে সেগুলি কংগ্রেসের পক্ষে ছেড়ে দেওয়া নিতান্তই অসম্ভব। আর মূলত সেই কারণেই কংগ্রেসের সঙ্গে আইএসএফ-এর আসন সমঝোতা আটকে রয়েছে। সোমবার ওই ব্যাপারে মীমাংসার জন্য ফের জোটের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিনের ব্রিগেড সমাবেশে যদি ৬০ শতাংশ জায়গায় বামেদের লাল পতাকা শোভা পেতে দেখা যায় তবে ৪০ শতাংশ অংশে দেখা গিয়েছে আইএসএফ-এর নীল-সাদা-সবুজ পতাকা। এদিন ব্রিগেডে কংগ্রেসের পতাকা বলতে গেলে প্রায় চোখেই পড়েনি।

ব্রিগেড সমাবেশ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম বলেন, ’যে যতই মিছিল করুক না কেন সারা দেশে নরেন্দ্র মোদিকে টক্কর দেওয়ার মতো একজনই নেত্রী আছেন, তিনি হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্রিগেডে সভা করা মানেই ভোট পেয়ে যাওয়া নয়।‘ কংগ্রেস, বাম ও আইএসএফের জোটকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, এতদিন দুটি দল অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। হাতে ক্রাচ হিসেবে তারা পেয়েছে আর একটি দলকে। সুতরাং ওই জোটের দৌড় আগামী দিনে রাজ্যের মানুষ দেখতেই পাবেন।

অপরদিকে, এদিনের সমাবেশকে কটাক্ষ করে বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কংগ্রেস ও বামপন্থীরা তাদের দলকে ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে দাবি করলেও এদিনের সভা থেকে পরিষ্কার যে তারা সাম্প্রদায়িকতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’ তাঁর দাবি, এদিনের সভায় ইনক্লাব জিন্দাবাদ ধ্বনি শোনা গেলেও একবারের জন্যও বন্দে মাতরম ধ্বনি শোনা যায়নি।