কৃষি আইনের বিরোধিতায় পথে নেমে রাজ্যের মন্ত্রীর গাড়ি চাপড়ে বিক্ষোভ

132

বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ফের সেই পুরোনো জঙ্গি আন্দোলনের কায়দাতেই পথে নেমে পড়লেন বর্ধমানের বাম নেতা-কর্মীরা। সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ যুক্তমঞ্চ (এআইকেসিসি)-এর ডাকে শনিবার দুপুরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে বর্ধমানের নবাবহাট মোড়ে অবরোধ করেন তাঁরা। এই অবরোধে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও স্বপন দেবনাথ দুজনেরই কনভয় আটকে পড়ে। বামকর্মীরা স্বপন দেবনাথের গাড়ি চাপড়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করলে পুলিশ কোনওক্রমে তাঁদের সরিয়ে দিয়ে দুই মন্ত্রীর গাড়ি পাশ করিয়ে দেয়। তবে দুই মন্ত্রীর কেউই অবশ্য এদিন অবরোধে অংশ নেওয়া বামকর্মীদের কোনও নিন্দা করেননি। যাওয়ার সময়ে দুই মন্ত্রী শুধু স্মরণ করিয়ে দিয়ে যান কেন্দ্রীয় কৃষি বিলের বিরোধীতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম সরব হয়েছিলেন। ঘণ্টাখানেক পর পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।

গোটা রাজ্যের পাশাপাশি এদিন বর্ধমানের বামকর্মীরাও কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতায় ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। সেই সময়ে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর কনভয় প্রথমে অবরোধে আটকে পড়ে। কৃষক সভার সদস্যরা তাঁকে একপ্রস্থ বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দমকল মন্ত্রীর কনভয় কোনও রকমে পার করে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটীর শিল্প ও প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের গাড়ি নবাবহাট মোড়ে পৌঁছোলে আটকে যায়। স্বপন দেবনাথকে দেখা মাত্রই তাঁর গাড়ি আটকে চরম বিক্ষোভে শামিল হন কৃষক সভার সদস্যরা। তাঁর গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি করাও শুরু হয়ে যায়। স্বপন দেবনাথের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কৃষক সভার সদস্যরা ‘চাল চোর’ স্লোগান দেওয়া শুরু করে দেন। এসব নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় জাতীয় সড়কে। প্রথমে পুলিশ চেষ্টা করেও মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কনভয় পার করতে পারেনি। পরে কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পুলিশ স্বপন দেবনাথের গাড়ি পার করিয়ে দেয়।

- Advertisement -

এদিন জেলার গলসির বুদবুদে নবনির্মিত দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও স্বপন দেবনাথ। সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে কনভয় আটকে দেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কৃষি বিলের বিরুদ্ধে আমরাও আন্দোলন করছি। কিন্তু এরকমভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে নয়।’ স্বপনবাবুর দাবি, ‘শুধু এই রাজ্যেই নয়, সারা দেশে আমরাই প্রথম থেকে এই বিলের বিরোধিতা করেছি। এই শীতে দেশের কৃষকেরা রাস্তায় থেকে আন্দোলন করছেন। তাঁদের পাশে আমরাও আছি।’ মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘কৃষি আইন নিয়ে আমাদের নেত্রী আন্দোলন জারি রেখেছেন। আমরাও করছি। আমরা এই বিলের বিপক্ষে। তবে একদিনের এমন অবরোধে কীই বা আর লাভ হবে।’

কৃষকসভার জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী এই আইন। গোটা দেশেই আজ আন্দোলন চলছে। মন্ত্রীদের গাড়ি কোথায় আটকেছে আমরা দেখিনি।’