একুশের অঙ্কে বামেরা প্রাসঙ্গিক হচ্ছে কোচবিহারে

844

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল বিরোধী অ-মুসলিম ভোটের প্রায় পুরোটাই বিজেপির দিকে যায়। রাজ্যে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের সেটা অন্যতম কারণ। বামেরা প্রায় মুছে গিয়েছিল এই কারণেই। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে তৃণমূলের পক্ষে রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে, তৃণমূল বিরোধী ভোটের সামান্য অংশও যদি বামেরা ফিরে পায় তাহলে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলের। অধিকাংশ জায়গায় তারা লোকসভা ভোটে হারানো জমি ফিরে পাবে। অন্যদিকে, ভোট কাটাকাটির হিসাবে বামপন্থীরা কার্যত কিং মেকারের ভূমিকায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কোচবিহারে জেলাতেও এই অঙ্কেই বামেদের কিছুটা জায়গা ছাড়ছে তৃণমূল। কোচবিহার জেলার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিভিন্ন ইস্যুতে লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বামেরা। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বামেদের এই সক্রিয়তাকে তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত বলে খোঁচা দিয়েছেন।

কোচবিহার জেলার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম নাটাবাড়ি। মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এলাকা বলে এই কেন্দ্রের গুরুত্বই আলাদা। কোচবিহার-১ ব্লকের জিরানপুর, দেওয়ানহাট, পানিশালা, গুড়িয়াহাটি-১ ও ২, ডাউয়াগুড়ি, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বলরামপুর-১ ও ২, অন্দরান ফুলবাড়ি, দেওচড়াই, চিলাখানা-১ ও ২, নাটাবাড়ি-১ ও ২, মারুগঞ্জ, ধলপল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে এই কেন্দ্রের বিন্যাস। বরবারই এই কেন্দ্রে খুব কম মার্জিনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এখান থেকে তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সিপিএমের তমসের আলিকে হারিয়ে জেতেন। তবে দুবার তাঁর জয়ের ব্যবধানের চেয়ে এখানে বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বেশি ছিল। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বাম ভোটের বড় অংশ টেনে নিয়ে বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে যান।

- Advertisement -

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কোচবিহার আসনে বিজেপির জয়ের পর সিপিএম নাটাবাড়িজুড়ে তৃণমূলের দখলে থাকা পার্টি অফিসগুলি পুনরুদ্ধার ও বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করে। বর্তমানে তাদের কর্মসূচিগুলিতে ভালো জমায়েত চোখে পড়ছে। রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী তারা একযোগে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগছে। ২৬ নভেম্বর দেশব্যাপী হরতালের সমর্থনে সিপিএমের ধলুয়াবাড়ি এরিয়া কমিটি এদিন দেওয়ানহাট বালাসি চৌপথি থেকে পানিশালা ৪ নম্বর বাজার পর্যন্ত গণমিছিল করে। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা মিছিলে নেতৃত্ব দেন। নাটাবাড়ি কেন্দ্রে সিপিএমের এই সক্রিয়তা ২১-এর ভোটে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সিপিএমের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, এখানে তৃণমূলের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার মুখে। তাই এই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক তথা মন্ত্রী সিপিএমের সঙ্গে আঁতাত করে ভোটে ফায়দা লুটতে চাইছেন। কিন্তু বাস্তবে মানুষ বিজেপিকে দুহাত ভরে সমর্থন করবেন।

এই কেন্দ্রে সিপিএমের দুবারের বিধায়ক তথা রাজ্য কমিটির সদস্য তমসের আলি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের আঁতাতের অভিযোগ অলীক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। আগামী ভোটে আমরা সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে এই কেন্দ্রে দুই দলকেই হারাব। ইতিমধ্যে আমাদের কর্মসূচিতে মানুষের ভিড়ে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, সিপিএম তাদের মর্যাদা রক্ষা করতে সক্রিয় হবে, এটাই স্বাভাবিক। উনিশের ভোটে তারা যে ভুল করেছিল তা বুঝতে পারছে। একে স্বাগত জানাই। আর বিজেপি নেতৃত্ব ভোটে হারার আতঙ্কে ভুলভাল বকছেন।