বংশীহারীতে সংসারে সুখ-শান্তি এনেছে পাতিলেবুর চাষ

170

দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : সংসারে অভাব নেই। তবে যেটুকু সময় পান কিছু না কিছু করে স্বামীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন বংশীহারী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রীনা সরকার। লকডাউনের অবসরে বাড়িতে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে পড়ে থাকা জমিতে পাতিলেবুর চাষ শুরু করেন দম্পতি। আর এই লেবু বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে বলে দাবি রীনাদেবীর। তিনি সংসার চালানোর পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব অতিয়ত্নে পালন করে চলেছেন। পড়ে থাকা জমিতেই পাতিলেবুর গাছ লাগিয়ে এলাকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কৃষক হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

রীনাদেবী বলেন, একসময় আমার স্বামী মহাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন। আর এই রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর চাষাবাদে দারুণ ব্যাঘাত ঘটে। তাঁকে কিছুটা কৃষিজমিও বিক্রি করতে হয়। এর ফলে বছর তিনেক আগে অভাবের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। অনেক চিন্তাভাবনা করে ২৩ শতক জমিতে পাতিলেবুর বাগান তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। মাত্র ৯৩টা লেবুর চারাগাছ লাগাই। এদিকে গতবছরের তুলনায় এবারে আরও ভালো ফলন হয়েছে। গত বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে লেবু তোলা শুরু করেছি। লকডাউনের কারণে অফিসে কম যেতে হচ্ছে। তাই লেবুচাষে সময় বেশি দিতে পারছি। প্রতিদিন গড়ে ২৫০০ পিস লেবু তুলি। সেগুলি পাইকারি দরে বাজারে বিক্রি করি। দাম ভালোই মেলে। স্বামী নিজে লেবুগুলো বাজারে নিয়ে গিয়ে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। পাতিলেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় গতবার ৩৮ শতক জমিতে আরও ১১০টা লেবুর চারাগাছ লাগিয়েছি।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে স্বামী বাজু সরকার বলেন, স্ত্রী রীনার পরামর্শে লেবুর চাষ শুরু করি। আমরা দুজনেই গাছের পরিচর্যা করি। এখন রীনা সভাপতি হলেও লেবুর বাগানে সময় দেয়। ইতিমধ্যে আশি হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছি। আরও চল্লিশ হাজার টাকার মতো পাতিলেবু গাছে রয়েছে। লেবুই আমাদের সংসারে সুখ এনেছে। আমাদের লেবু চাষ দেখে খিদিরপুর গ্রামের অনেকেই জমিতে পাতিলেবুর চাষ শুরু করেছেন।

বংশীহারী ব্লক তৃণমূল সহ সভাপতি সুরজিৎ ঘোষ বলেন, সভাপতি রীনা সরকারের পাতিলেবু চাষের সাফল্যলাভের কথা শুনেছি। তিনি রোজগারের এক পথের দিশা দেখিয়েছেন আমাদের। একইভাবে অনেকেই চাষ করে সংসার চালাতে পারেন।