চিতাবাঘের হানায় গোরুর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য

163

ফাঁসিদেওয়া: মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাস নিজাম তারা গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়নজোত গ্রামের হাঁসখোয়া চা বাগানের ভিতর চিতাবাঘের হানায় গোরুর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন বিকেল নাগাদ ওই গ্রামে ১টি গোরুর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা প্রথমে খুবলে খাওয়া গোরুর মৃতদেহ দেখতে পান। এলাকায় ঘোরাঘুরি করে, ফের ঘটনাস্থলে আসতেই, উধাও হয়ে যায় মৃত গোরুর মৃতদেহ। স্থানীয়দের অনুমান চিতাবাঘটি ফের এলাকায় এসে আধখাওয়া গোরুটি নিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে, বাগডোগরা এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চা বাগানের ভেতর শব্দবাজি পোড়ানো হয়।চিতার খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। বাগডোগরা এলিফ্যান্ট স্কোয়াডে বিট অফিসার কল্যান গুরুং জানিয়েছেন, এদিনের তল্লাশিতে চিতাবাঘের দেখা মেলেনি। বুধবার সকালে ফের এলাকায় চিতাবাঘের খোঁজে তল্লাশি চালানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তরফে আবেদন জানালে, সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

গত ১৬ ডিসেম্বর রাঙ্গাপানি এলাকায় চিতাবাঘের হামলায় সারুগাড়া বনদপ্তরের রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত সহ মোট ৫ জন জখম হয়েছিলেন। রাঙ্গাপানি রেলগেট এবং বেসরকারি ক্যান্সার হাসপাতাল সংলগ্ন শিমুলতলা গ্রামে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। পরে, বনকর্মীদের চালানো গুলিতে চিতাবাঘটির মৃত্যু হয়। ১৯ ডিসেম্বর ফের এলাকা সংলগ্ন হাতভোরাজোতে মুরগি ফার্মের কাছে চিতাবাঘের দেখা মেলে। ২৭ ডিসেম্বর রাঙ্গাপানি তেঁতুলতলা শনি মন্দির এলাকায় প্রিয়লাল ভৌমিকের বাড়িতে চিতাবাঘের হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। প্রতিটি ঘটনায় বনদপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি করেছিলেন। বেশিরভাগ ঘটনায় চিতাবাঘের পায়ের ছাপ মিলছিল। তবে, বনদপ্তরের তরফে খাঁচা পাতা হয়নি। এখনও পর্যন্ত একটিও চিতাবাঘ ধরা পড়েনি। ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার চিতাবাঘ বেরোনোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন আগে এক যুবক বাড়ি ফেরার পথে তৎসংলগ্ন বণিজজোত এলাকায় চিতাবাঘ দেখতে পেয়েছিলেন বলে খবর মিলেছে। এদিন হাঁসখোয়া চা বাগানের বালাসন ডিভিশনের ১ নম্বর সেকশনে ফের চিতাবাঘের হানার ঘটনায় স্থানীয়রা অবিলম্বে বনদপ্তরের কাছে চিতাবাঘ ধরার জন্য খাঁচা বসানোর দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় আজাহার আলি জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই রাঙ্গাপানি সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘের হানা অব্যহত রয়েছে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা আগে থেকেই আতঙ্কিত ছিলেন। এদিন স্থানীয় এক ব্যক্তির গোরু নিখোঁজ হয়ে যায়। চা বাগানের ভিতর নিখোঁজ গোরুর খুবলে খাওয়া দেহ উদ্ধার হয়। তাঁরা মনে করছেন, চিতাবাঘ গোরুটিকে মেরেছে। গ্রামবাসীদের আরেকজন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে থাকাকালীন অন্ধকার নেমে আসে। ভয়ে তাঁরা রাস্তার পাশে চলে যান। ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, সেখানে গোরুটির মৃতদেহ ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ করা হচ্ছে চিতাবাঘ এলাকাতেই ছিল। প্রচুর মানুষ একসঙ্গে থাকায় চিতাবাঘ বেরোনোর সাহস পায়নি। পরে, শিকার নিয়ে চিতাবাঘটি লুকিয়ে পড়েছে বলে তাঁদের অনুমান। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে বনদপ্তরের তরফে খাঁচা বসানো হোক। প্রায় ২ বছর আগে এলাকায় একটি চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি করেছিল বনদপ্তর। এবারেও সেই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ওই গ্রামের সকল বাসিন্দারা। এদিন সন্ধ্যা নামতেই গ্রামবাসীরা ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন।