লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়ালো চিতা, সামাজিক দূরত্ব ভুলে ভিড় জমালেন স্থানীয়রা

312

ফাঁসিদেওয়া, ৮ মেঃ দিনদুপুরে লোকলয়ে চিতা বাঘ বেরিয়ে আসার ঘটনায় হাঁসখোয়া চা বাগান সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের পশ্চিম দানাগছ এলাকায় ব্যপক আতঙ্ক ছড়াল। শুক্রবার হাঁসখোয়া চা বাগান থেকে শাবক সহ একটি চিতাবাঘ স্থানীয় একটি ছোট্ট বটলিফ চা বাগানে ঢুকে পড়ে। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করতেই স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই চা বাগানের চারিধারে ভিড় জমান। লকডাউনের মাঝে সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে, এলাকাবাসী আতঙ্কে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। এরপর ভয়ে চিতাবাঘ ওই চা বাগানেই আটকে পড়ে। তড়িঘড়ি বাগডোগরা এলিফেন্ট স্কোয়াডে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ, খবর দেওয়ার প্রায় কয়েকঘণ্টা পর বনকর্মীর সেখানে আসেন। যদিও, পরে বনকর্মীরা এসে শব্দবাজি ফাটান। এরপরেই বমকর্মী এবং এলাকাবাসীর সামনে দিয়েই মা চিতাবাঘটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা চিতাবাঘটি ধরতে খাঁচা বসানোর দাবি জানিয়েছেন।

লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়ালো চিতা, সামাজিক দূরত্ব ভুলে ভিড় জমালেন স্থানীয়রা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
লকডাউনে সামাজিক দূরত্ব ভুলে বাঘ দেখতে স্থানীয়দের ভিড়।

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন চলছে। উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে সম্প্রতি ২৫ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ফলে, শিলিগুড়ি মহকুমার একাধিক চা বাগান স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন অনেকটাই ফাঁকা। খাবার না পেয়ে, হামেশাই লোকালয়ে চিতাবাঘ ঘুরছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সম্প্রতি হাঁসখোয়া চা বাগান সংলগ্ন টুনা-৭ বস্তির কাছ দিয়ে ফাঁসিদেওয়ার সুদর্শন কুজুর নামে এক শিক্ষক স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি চিতাবাঘ বাগানের ধারে বসে থাকতে দেখেন। এমনকি সে ছবি তিনি ক্যামেরাবন্দীও করেন। ওই একইসময়ে ঝমকলালের ইয়াকুব আলী নামে এক বাইক আরোহী একই জায়গায় চিতাবাঘ বসে থাকতে দেখেন। এদিন ফের চিতাবাঘ বেরোনোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ফের আতঙ্কের পারদ চড়ছে। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পশ্চিম দানাগছের ওই চা বাগানে চিতাবাঘ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে। পরে ওই বাগানে ঘণ্টাখানেকেরও বেশী সময় ধরে বনকর্মীরা খোঁজাখুজির পর, চিতাবাঘটি বনকর্মীদের আক্রমণের চেষ্টা করে। যদিও, কারো কোনও ক্ষতি না করেই, লোকজনের সামনে দিয়ে বাঘটি বাগান থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। তবে, স্থানীয়রা চিতা শাবকের রয়েছে বললেও, বনকর্মীরা তা দেখতে পাননি। বাগডোগরা এলিফেন্ট স্কোয়াডের কল্যাণ গুরুং জানিয়েছেন, একটি চিতাবাঘ তাঁরা জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। স্থানীয়রা গণস্বাক্ষর করে বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশনে চিতা ধরার আবেদন করলে, খাঁচা বসানো হবে।

- Advertisement -

স্থানীয় রুবেন বেক, পুজা বেক, বরুণ টোপ্পো, অনুপ কুমার সিংহ, জনি মিঞ্চ প্রমুখ জানিয়েছেন, লকডাউনের মাঝে হামেশাই চিতাবাঘ বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটছে। এলাকা ফাঁকা পেয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। এমনকি দিনকয়েক আগে, পাশের গ্রামে চিতাবাঘ কয়েকটি ছাগল মেরে দিয়েছে। আকছার এমন ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে। রাতে বাড়ি থেকে বেরোতেও তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় বাঘ ধরে, বনকর্মীরা আশেপাশের জঙ্গলেই ছেড়ে দেন। তাঁরা আরও জানান, ওই চা বাগানেই চিতার শাবক রয়েছে। ফলে, বাচ্চাকে নিতে চিতা ফের আসবেই। স্থানীয় শরবন চিক বড়াইকের অভিযোগ, সঠিক সময়ে বনকর্মীরা এলে, চিতাটি ধরা সম্ভব হত। ইতিমধ্যেই ওই গ্রামে বাঘ ধরতে দ্রুত খাঁচা পাতার দাবি জোড়ালো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এবারে অন্তত বাঘ ধরে দূরের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হোক।