মুরগির খামারে চিতার দর্শনে আতঙ্ক

258

ফাঁসিদেওয়া, ১৯ ডিসেম্বরঃ ফের চিতা বেরোনোর ঘটনায় রাঙ্গাপানি এলাকায় আতঙ্কের পারদ আরও চড়ল। শনিবার প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে ফাঁসিদেওয়ার অদূরে রাঙ্গাপানি সংলগ্ন হাতভরাজোত এলাকায় গ্রামবাসীরা মুরগির খামারের পাশে চিতা বাঘ দেখতে পেয়েছিলেন। খবর চাউর হতেই গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বাগডোগরা এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের বনকর্মীরা পৌঁছান। স্থানীয় বটলিফ চা বাগান এলাকাসহ একাধিক জায়গায় চিতার পায়ের ছাপও মিলেছে। বন কর্মীরা সেখানে শব্দবাজি পোড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় দিনভর তল্লাশি চালিয়েছেন। তবে, এদিন বাঘটি উদ্ধার হয়নি। ইতিমধ্যেই, স্থানীয়দের মধ্যে ওই গ্রামে বাঘ ধরতে খাঁচা বসানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

এদিন ভোর নাগাদ ওই বটলিফ চা বাগানের ম্যানেজার তথা স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত সাউ সকালে হাঁটতে বেরিয়ে মুরগির খামার থেকে একটি অজানা জন্তু দেখে থমকে যান। পরক্ষণেই তিনি জন্তুটিকে চিতা বলে ঠাহর করতে পান। তিনি জানিয়েছেন, ওই চিতাটিকে দেখতে পেয়ে তিনি আতঙ্কে সকলকে বিষয়টি জানান। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যাতেও একটি চিতা দেখা গিয়েছিল। অপরদিকে, বুধবার রাতে ওই গ্রাম সংলগ্ন শিমুলতলাতে চিতাবাঘের হানায় শালুগাড়া বনদপ্তরের রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত সহ মোট ৬ জন ঘায়েল হয়েছিলেন। বেধড়ক বেতাঘাতের পর শেষ পর্যন্ত বনদপ্তরের চালানো গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল চিতা বাঘটির। লাগাতার চিতা বেরোনোর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বহাল রয়েছে।

- Advertisement -

চিতার হানা বহাল থাকলেও, বন দপ্তরের তরফে বাঘ ধরতে কেনও খাঁচা পাতা হচ্ছে না, তানিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। এদিন সন্ধ্যা নামার আগেই গোটা এলাকায় নির্জনতা বিরাজ করছে। এদিন স্থানীয় চাষের জমি, চা বাগান থেকে শুরু করে বুড়ি বালাসন নদী সংলগ্ন এলাকায় বনকর্মীদের তল্লাশিতে চিতার পায়ের ছাপ মিলেছে। সেগুলির মধ্যে কিছু ছাপ পুরোনো ছিল। মনে করা হচ্ছে এলাকায় দৈনিক বাঘের চলাচল রয়েছে। শনিবার ভোরে চিতাটি শিকারের খোঁজে মুরগির খামারে চলে এসেছিল। বাগডোগরা বনদপ্তরের বিট অফিসার কল্যান গুরুং জানিয়েছেন, ফের যদি চিতা দেখা যায়, তবে তাঁরা ঘটনাস্থলে আসবেন। বাঘ ধরার জন্য খাঁচা বসানো হবে। ফাঁসিদেওয়া ব্লকে বিগত কয়েকমাসে ৪ বার চিতা বেরোনোর ঘটনা ঘটেছে বলে খবর।