ফাঁসিদেওয়ায় চিতাবাঘের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে এলাকাবাসীর

325

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া: চিতাবাঘের হামলায় এক মহিলা জখম হওয়ার পর থেকেই চিতাবাঘের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে এলাকাবাসীর। শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ার ঘটনা। চিতাবাঘের হানায় জখম মহিলা স্বপ্না কানু বর্তমানে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার গভীর রাতে ফাঁসিদেওয়া থানা এবং বিডিও অফিস সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পুরোনো হাটখোলা এলাকায় চিতাবাঘ বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় পৌঁছায় ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ এবং ঘোষপুকুর বন বিভাগের কর্মীরা। কিন্তু তল্লাশি চালিয়েও তাঁরা চিতাবাঘটিকে ধরতে পারেননি। এদিন সকাল থেকেই ফের এলাকায় বনকর্মীরা গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালালেও চিতাবাঘ উদ্ধার করা হয়নি। এদিকে স্থানীয় এক মহিলার দাবি, বিকেলে ফাঁসিদেওয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে চিতাবাঘটিকে দেখা যায়। ইতিমধ্যেই, ওই এলাকায় স্থানীয়রা বাঘ ধরার জন্য খাঁচা পাতার দাবি তুলেছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রের খবর, বিগত এক মাস যাবৎ পাশেই থাকা মহানন্দা নদী ধারে বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের অনেকেই ওই বাঘটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখতেন। কিন্তু, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ভয়ে, তাঁরা কাউকেই কিছু জানাননি। গতকাল রাতে ওই চিতাবাঘটিই লোকালয়ে চলে এসেছিল বলে এলাকাবাসীরা দাবি করেন। এলাকায় প্রায় দু’শো পরিবারের বসবাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার গোটাদিন এলাকা শুনসান ছিল। স্থানীয়রা জানান, একাধিক জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। তবে, এদিন বনকর্মীরা চিতার পায়ের ছাপ কিংবা বাঘের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, গতকাল রাতে শব্দবাজি ফাটানোতে বাঘটি জঙ্গলের দিকে চলে গিয়েছিল।

এই বিষয়ে ঘোষপুকুর বন দপ্তরের রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া জানান, এদিন সকালে এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। চিতাবাঘটিকে আর দেখা যায়নি। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে চিতাবাঘটি লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে গিয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, স্থানীয়রা বিষয়টি জানালে বন দপ্তরকে এলাকায় খাঁচা পাতার জন্য জানানো হবে।