ড্রোন উড়িয়ে চিতার খোঁজ, অন্য গ্রামে রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী

224

ফাঁসিদেওয়া, ৩১ ডিসেম্বরঃ ড্রোন উড়িয়ে চলল চিতার খোঁজ। বৃহস্পতিবার গোটাদিন টহল দিয়েও মিলল না বাঘের দেখা। আতঙ্কে ঘুম ছুঁটেছে গ্রামবাসীর। অন্যগ্রামে গিয়ে রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর কাজিগছ এলাকায় চিতাবাঘের হানার খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এদিন সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের এলাকায় টহল দেন বনকর্মীরা। পাশাপাশি, গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বনকর্মীরা গ্রামে টহলদারী চালাবেন বলে জানিয়েছেন কার্শিয়াং বনবিভাগের এডিএফও চিনময় বর্মন।

বুধবার কাজিগছ গ্রামে চা বাগানে পাতা তুলতে গিয়ে মিনতি পাহান (১৫) নামে এক কিশোরী চিতা বাঘের হামলায় গুরুতর জখম হয়। এরপর তাঁকে বিধাননগর প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিতাবাঘ দেখতে পান। তবে, রাত পর্যন্ত নানাভাবে চেষ্টা করা হলেও, শেষ পর্যন্ত বাঘটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ওই রাতে চা বাগানে চিতা ধরতে খাঁচা বসানো হয়। অথচ, বাঘ ধরা না পড়ায় আতঙ্ক বহাল রয়েছে ওই গ্রাম ছাড়াও বেশ কয়েকটি গ্রামে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার বনবিভাগ এবং বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের উপস্থিতিতে প্রথমে এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চিতার ট্রেল পাওয়া গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রের খবর। পরে, বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশির পাশাপাশি, সচেতনতা প্রচার চালানো হয়। এদিন ঘটনাস্থলে ঘোষপুকুর রেঞ্জ, বাগডোগরা রেঞ্জ, সুকনা এবং কার্সিয়াং ডিভিশনের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়েছেন। স্থানীয় বিতিয়া মারডি জানান, তাঁর বাড়ির পেছনেই চিতা চা বাগানে বসেছিল সে কারণে তিনি সহ গোটা গ্রামবাসী আতঙ্কিত। অবিলম্বে চিতাটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন তাঁরা।

কার্সিয়াংয়ের এডিএফও চিন্ময় বর্মন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কাছে খাঁচা বসানো রয়েছে। এদিন চিতাবাঘের দেখা মেলেনি। মনে করা হচ্ছে চিতাটি এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান চালাবেন। তিনি আরও জানান, এদিনও ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে রাতে বাড়ি থেকে বেরোলে, সতর্কতা নিয়ে দল বেঁধে বেরোনোর আর্জি জানান। চিতার হামলায় জখম কিশোরীকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।