গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : আগে ছিল দুই বাংলার মিলনক্ষেত্র। কিন্তু সীমান্তে কাঁটাতারের পর এখন ওপার বাংলা থেকে আর কেউ আসেন না। তাই লক্ষ্মীপুজো এলে মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোটবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশ মোড় সংলগ্ন এলাকার বয়স্কদের অনেকেরই মন খারাপ হয়। সীমান্তের এই গ্রামে একটা সময় লক্ষ্মীপুজোই ছিল বছরের সবচেয়ে বড়ো উৎসব। যে উৎসবে শামিল হতেন দুই বাংলার মানুষ। শুধু শামিল হওয়াই নয়, মা লক্ষ্মীর জন্য নারকেল, খই, নাড়ু-মোয়াও ওপার বাংলা থেকে নিয়ে আসতেন অনেকে। দুতিনদিন ধরে চলত এই পুজো। বাংলাদেশের অনেকে পুজোর কটা দিন এপারেই আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে কাটাতেন। তখন অবশ্য সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ছিল না। তাই লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে দুই বাংলার মানুষের মিলন ঘটত। তবে মন বিষণ্ণ হলেও ধনদেবীর আরাধনায় শামিল হতে ভোলেন না এলাকার বাসিন্দারা।

চপবালা রায়, দীপচাঁদ কর্মকার, বিদ্যমোহন রায় প্রমুখ বাসিন্দারা জানান, আগের সেই আমেজ না থাকলেও মা লক্ষ্মীর কাছে গ্রামের মঙ্গলকামনা করতে ভোলেন না কেউই। গ্রামের স্থায়ী মন্দিরেই ধনদেবীর পুজোর আযোজন করা হয়। পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই এর প্রস্তুতি নেওয়া হত। বর্তমানে সেই সাজোসাজো রব আর নেই। আজ থেকে প্রায় বছর ষাটেক আগে এই বাংলাদেশ মোড় গ্রামে লক্ষ্মীপুজোর সূচনা হয়। মূলত কৃষিনির্ভর এই এলাকায় চাষের ফলন যাতে ভালো হয় সেই উদ্দেশ্যেই এখানে এই পুজো শুরু হয়। আগে পুজোর পাশাপাশি দিনভর পৌরাণিক যাত্রাপালা পরিবেশিত হত। পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামে মেলা বসত। দুর্গাপুজোর পর থেকেই লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতীতের সেই আনন্দই উধাও হয়ে গিয়েছে। নবপ্রজন্মেরও তেমন আগ্রহ চোখে পড়ে না।

- Advertisement -