শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জন্য ২০১৭ সালে অনেক বুকিং বাতিল হয়েছিল। তাছাড়া এমন পুজো শেষ কবে কাটিয়েছেন, ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা তা মনে করতে পারছেন না। অন্যবার তো ডুয়ার্সের বেসরকারি লজের কর্মীদের এই মরশুমে নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না। লজ মালিকদের পাশাপাশি এবার তাঁরাও পুজোর কদিন একরাশ আশঙ্কা নিয়ে শুকনো মুখে কাটিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হতাশ ডুয়ার্সের কয়েক হাজার পর্যটন ব্যবসায়ী। কেন এমন হল, তা খুঁজতে আলোচনায় বসতে চলেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পুজোর মরশুমে দূরদূরান্ত থেকে বহু পর্যটক ভিড় জমান ডুয়ার্সে। ডুয়ার্সের সবুজ জঙ্গল, বন্যপ্রাণী, নদী, পাহাড় থেকে চা বাগান প্রতি বছর ভ্রমণপিপাসুদের টানে। ফলে এই মরশুমে ডুয়ার্সে তিলধারণের জায়গা থাকে না। লজগুলি ভরতি থাকে, আশপাশের রেস্তোরাঁগুলিও পর্যটকের ভিড়ে গমগম করে। গাড়িচালক থেকে স্থানীয় দোকানদাররাও এসময় ভালো ব্যবসা করেন। সবমিলিয়ে ডুয়ার্সের অর্থনীতি এই সময়ই চাঙ্গা হয়ে ওঠে। অনেকে আবার সারা বছর সংসার চালানোর জন্য এই সময়টার দিকেই তাকিয়ে থাকেন। এবছর ছবিটা একেবারেই আলাদা। পুজোর কয়েকদিন ডুয়ার্স ছিল একেবারেই পর্যটকশূন্য। পুজোর পর দিনদুয়েছের জন্য ডুয়ার্সে কিছুটা পর্যটকের ভিড় হলেও লক্ষ্মীপুজোর পর আবার শুনসান লজগুলি।

- Advertisement -

গত এক দশকে পুজোর মরশুমে পর্যটকের এমন আকাল খুব একটা দেখেননি ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, প্রতিবছর পুজোর দিনচারেক আগে থেকে ডুয়ার্সে পর্যটকদের ঢল নামে। কালীপুজোর আগে পর্যন্ত তা বজায় থাকে। সারা বছরের ব্যবসার লাভের একটা বড়ো অংশ এই পুজোর মরশুম থেকেই আয় করেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ছবিটা একেবারেই আলাদা। পুজোর কদিন ডুয়ার্সে পর্যটক ছিল না বললেই চলে। দিব্যেন্দুবাবু বলেন, এর আগে ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় বহু জায়গায় রেললাইন ধসে যাওয়ায় পর্যটকদের অনেকে ডুয়ার্সে তাঁদের বুকিং বাতিল করেছিলেন। তার কারণ বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু এবছর বুকিং করেননি পর্যটকরা। তাঁদের না আসার কারণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের কোষাধ্যক্ষ মিঠু মুখোপাধ্যায় বলেন, এবছর পুজোর মরশুমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যটক কম এসেছেন। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

দিব্যেন্দুবাবু বলেন, পর্যটকদের এই সংখ্যা কমে যাওয়া খুবই চিন্তার বিষয়। এর কারণ খুঁজতে আগামী ১০ অক্টোবর সংগঠনের তরফে লাটাগুড়িতে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রথমে সংগঠনের সদস্যরা বৈঠক করবেন। তারপর আরও বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। পর্যটক না আসার কারণ খোঁজার পাশাপাশি এই মন্দা মোকাবিলায় কী করা হবে, সেই পথ খোঁজার চেষ্টাও করা হবে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, আমাদের পর্যটন দপ্তরের বাংলোগুলিতে পুজোর কদিন বুকিং ছিল। তবে, বেসরকারি লজগুলিতে বুকিং সেভাবে ছিল না বলে খবর পেয়েছি। কেন এমন হল, তার কারণ খুঁজতে বেসরকারি লজ মালিক ও অন্যান্য সংগঠনকে নিয়ে বৈঠকে বসব। সবাই মিলে বসে এর সমাধানসূত্র খুঁজতে হবে।