বিশ্বভারতীতে আসুক কেন্দ্রীয় বাহিনী, দাবি স্বপন দাশগুপ্তের

327

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: বিশ্বভারতীর পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল তোলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণ্ডগোল, ভাঙচুরের বিতর্কিত বিষয় এবার ঠাঁই পেল সংসদে। বুধবার এই ইশ্যু তুলে সরব হলেন বিজেপি সমর্থিত নির্দল সাংসদ ড. স্বপন দাশগুপ্ত। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতির হাল ধরতে বিশ্বভারতীতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী বহাল করার আর্জি রাখেন স্বপনবাবু।

বুধবার রাজ্যসভায় জিরো আওয়ারে বিশ্বভারতী প্রসঙ্গে সরব হন রাজ্য বিজেপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বভারতী চত্বরে পৌষমেলার মাঠে নির্মিত একটি পাঁচিল গড়া নিয়ে সম্প্রতি উত্তাল হয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজরিত শিক্ষাকেন্দ্র, স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী যার আচার্য। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রবল ভাঙচুর চালান বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অফিসে। ভাঙা হয় বিশ্বভারতীর একটি প্রধানগেট এমনকি সেই পাঁচিলও।’ এর পিছনে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বপনবাবু। তিনি বলেন, ‘এর ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে যার ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পঠনপাঠনের কাজ বন্ধ রেখেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

স্বপনবাবু জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই স্মৃতিজড়িত প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথমসারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম। কিন্তু রাজ্যের শাসকদলের মদতে তাতে লেগেছে রাজনীতির ছোঁয়া। ফলে থমকে রয়েছে বিশ্বভারতীর কাজ। বন্ধ হয়ে আছে পড়ুয়াদের পড়াশোনা। চূড়ান্ত নৈরাজ্যের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে শান্তিনিকেতনে। অবিলম্বে এই পরিস্থিতির সুরাহা করতে দু’টি প্রস্তাব দেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘বিশ্বভারতীতে শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে ও কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বহাল করা হোক। একই সঙ্গে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত মধ্যস্থতায় নামুক প্রধানমন্ত্রী দপ্তর।

স্বপনবাবু বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে এটিই এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার আচার্য রাষ্ট্রপতি নন, স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই জায়গাতে চলছে এই বেনজির অরাজকতা। অবিলম্বে এর সুরাহা করতে পদক্ষেপ নিক পিএমও দাবি স্বপনবাবুর। স্বপনবাবুর বক্তব্যে মাঝে উত্তাল হয়ে ওঠে তৃণমূল বেঞ্চ। ডেরেক ও’ব্রায়েন, মৌসম নূর সহ বিভিন্ন তৃণমূলী সাংসদেরা উঠে দাঁড়িয়ে তুমুল হইহল্লা ও প্রতিবাদ দেখান। স্বপনের বক্তব্যের কিছু অংশ ছাঁটাই করার দাবিও ওঠে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেননি চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু। পরে স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্যের তুমুল সমালোচনা করে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ‘বিশ্বভারতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ডেকে সেই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অসম্মান করতে চাইছেন উনি। খুব ভালো মতন বোঝা যাচ্ছে কারা সেনা ডেকে রবি ঠাকুরকে সম্মান জানাতে চান। এই মানসিকতা দূর্ভাগ্যজনক ও তীব্র নিন্দনীয় বলে জানান শান্তনু সেন।