গ্রন্থাগারিক সুবীরবাবুর চোখে মিউজিয়াম তৈরির স্বপ্ন

539

জসিমুদ্দিন আহমেদ, মালদা: টাকা-পয়সা সংগ্রহের ঝোঁক ছিল ছোট থেকেই। সেই নেশা থেকেই শুরু মুদ্রা সংগ্রহ। পেশায় গ্রন্থাগারিক হলেও ইতিহাস তাঁর নেশা। আজ তাই প্রায় ৩০ বছর পর ভারতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের মুদ্রা তাঁর সংগ্রহে। ইতিহাসের যে অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে মুদ্রাকে বেছে নিয়েছেন পুরাতন মালদার বাণীভবন লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক সুবীরকুমার সাহা। তাঁর সংগ্রহের তালিকায় রয়েছে সুলতানি, মুঘল যুগ থেকে শুরু করে হাল আমলের বিভিন্ন স্মারক মুদ্রা। সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। তাঁর সংগৃহীত প্রাচীন মুদ্রার পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি। দেশীয় মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস রচনা করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সুবীরবাবু।

মালদা শহরের গ্রিনপার্ক এলাকার বাসিন্দা সুবীরবাবুর প্রচেষ্টায় তাঁর কর্মক্ষেত্র বাণীভবন টাউন লাইব্রেরিটি মডেল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সুবীরবাবুর একাধিক নেশা। যার মধ্যে রয়েছে কলম সংগ্রহ, দেশলাইয়ে কভার সংগ্রহের মত বিষয়ও। কিন্তু মুদ্রা সংগ্রহ তাঁর নেশা নয়, তাঁর স্বপ্ন। ভারতবর্ষের মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস রচনা করা তাঁর লক্ষ্য। তবে সেই অভিষ্টে কবে পৌঁছতে পারবেন, তা জানেন না। স্বপ্নপূরণের জন্য মুদ্রা সংগ্রহের ভাঁড়ার বৃদ্ধি করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কোথাও কোনও মুদ্রার খবর পেলেই তা সংগ্রহের নেশায় সেখানে ছুটে যান তিনি। কিছু মুদ্রা নিলাম থেকেও সংগ্রহ করেছেন। এরজন্য বহু টাকাও ব্যয় করতে হয়েছে তাঁকে।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ সংবাদের মুখোমুখি হয়ে সুবীরকুমার সাহা বলেন, আমি অর্থনীতির ছাত্র। তবে টাকা-পয়সা সংগ্রহের ঝোঁক ছিল ছোট থেকেই। সেই নেশা থেকে মুদ্রা সংগ্রহ শুরু করি। সেটাও প্রায় ৩০ বছর আগে। ভারতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের মুদ্রা আমার সংগ্রহে রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে এখনও পর্যন্ত এদেশে যত মুদ্রার প্রচলন হয়েছে, তার অনেকগুলোই আমার কাছে রয়েছে। কিছু স্মারক মুদ্রাও জোগাড় করেছি। তার মধ্যে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১৫০, ১২৫, ১০০, ৭৫, ৬০ প্রভৃতি অর্থমূল্যের মুদ্রা রয়েছে। এইসব মুদ্রা নির্দিষ্ট অর্থমূল্যের থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। মুঘল আমলের প্রায় সমস্ত মুদ্রাই সংগ্রহ করতে পেরেছি। রয়েছে মহম্মদ বিন তুঘলক সহ দাস এবং সুলতানি বংশের সময়কালের মুদ্রাও। আমি চাই, আমার সংগৃহীত মুদ্রা ভবিষ্যতে যাঁরা মুদ্রা নিয়ে গবেষণা করবেন, তাঁদের কাজে লাগুক। সেজন্য একটি মুদ্রা মিউজিয়াম তৈরির ইচ্ছে রয়েছে। তবে আমার একার সামর্থ্যে সেই মিউজিয়াম গড়া সম্ভব নয়। দেখা যাক কতটা সাহায্য পাই। এখনও পর্যন্ত আমার সংগ্রহে থাকা মুদ্রাগুলি কোনও প্রদর্শনীতে নিয়ে যাওয়ার সাহস পাইনি।কারণ, কোনও মুদ্রা হারিয়ে গেলে সেটা ফের সংগ্রহ করা কার্যন্ত অসম্ভব। তবে লাইব্রেরির কিছু অনুষ্ঠানে এই সংগ্রহের নমুনা নিয়ে গিয়েছিলাম। সেরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে প্রদর্শনীতে নিয়ে যেতে পারি। এই সংগ্রহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। যদি কোনও ভারতীয় মুদ্রার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী হন, সেটাই আমার কাছে বড় পাওনা।