কর্মীর অভাবে হরিশ্চন্দ্রপুরে বন্ধ ৭টি লাইব্রেরি

312

মুরতুজ আলম, সামসী : হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন এবং আনলিমিটেড ডাটা প্যাক থাকলে কে আর লাইব্রেরির অপেক্ষায় থাকে। নতুন প্রজন্ম তাই একপ্রকার ভুলতে বসেছে গ্রন্থাগার শব্দটিকেই। একে তো পাঠকের অভাব। তার উপর যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে সরকারি কর্মচারী তথা লাইব্রেরিয়ানের অভাব। ক্রমশ কমতে থাকা পাঠক সংখ্যার পাশাপাশি বেহাল পরিকাঠামোর ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের একাধিক লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। লাইব্রেরির আলমারি ও তাকে থাকা লক্ষ লক্ষ টাকার বই পোকায় কেটে নষ্ট করছে। নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু গ্রন্থাগারগুলিতে নতুন কর্মচারী নিযোগের ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কোনো হেলদোল নেই।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকে রয়েছে মোট ৭টি লাইব্রেরি। পেমাভক্তিপুর ও তুলসীহাটা লাইব্রেরি বাদে বাকি হরিশ্চন্দ্রপুর টাউন লাইব্রেরি, বরুই গ্রামীণ লাইব্রেরি, ভিঙ্গল গ্রামীণ লাইব্রেরি, বিষ্ণুপুর গ্রামীণ লাইব্রেরি ও পিপলা গ্রামীণ লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও বিষ্ণুপুর গ্রামীণ লাইব্রেরিটি সপ্তাহে একদিন খোলা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লকে মোট ৫টি লাইব্রেরি রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দৌলতপুর, মশালদহ, ভালুকা বাজারের তিনটি লাইব্রেরি খোলা। বাকি  কুমেদপুর ও ইলাম লাইব্রেরি ২টি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

তুলসীহাটা লাইব্রেরির জুনিযার লাইব্রেরিয়ান লাড্ডুলাল রবিদাস জানান, ১৯৬২ সালে তুলসীহাটা পল্লিমঙ্গল পাঠাগারটি স্থাপিত হয়। তখন লাইব্রেরিয়ান হিসাবে যোগ দেন তুলসীহাটার বাসিন্দা সুনীকুমার মৈত্র ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান হিসাবে যোগ দেন যামিনীরঞ্জন সিনহা। তাঁরা অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রধান লাইব্রেরিয়ান হিসাবে বহাল ছিলেন বিষ্ণুপুরর বাসিন্দা আশিসকুমার সিনহা। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সহকারী লাইব্রেরিয়ান হিসাবে রয়েছেন লাড্ডুলাল রবিদাস। তুলসীহাটা পল্লিমঙ্গল পাঠাগারে মোট পাঠক সংখ্যা ৮৭২৫। সব শ্রেণির পাঠকদের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক বই রয়েছে। শিশু সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, নাটকের বই, ভ্রমণকাহিনি প্রভৃতি রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পত্রিকা ও ম্যাগাজিন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিনগুলি এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার লাইব্রেরি বন্ধ থাকে। লাইব্রেরিতে দুইটি কম্পিউটারও রয়েছে। দৈনিক পাঠক সংখ্যা ত্রিশজনের বেশি হয়। লাইব্রেরির পাশেই  রয়েছে তুলসীহাটা উচ্চবিদ্যালয়। টিফিন টাইমে ছাত্রছাত্রীরা নিজের  সিলেবাসের বই অথবা অন্যান্য বই লাইব্রেরিতে এসে পড়ে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিসেবা বিভাগ একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে, বই ধরো বই পড়ো ২০১৯। এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নিঃশুল্ক সদস্য পদ গ্রহণ। অর্থাত্ বিনা শুল্কে যে কোনো নাগরিকই গ্রন্থাগারের পরিসেবা পাবেন। এই লাইব্রেরিটি পরিচালনার জন্য রয়েছে ম্যানেজিং কমিটি।

লাইব্রেরির দৈনিক পাঠক মহম্মদ নাজিম আখতার জানান, সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার তেমনি পাঠাগারেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু ও হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিডিও প্রীতম সাহা বলেন, লাইব্রেরি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। প্রযোজনে বন্ধ লাইব্রেরিগুলি খোলার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে জানাবেন। মালদা জেলা গ্রন্থাগারিক ড. প্রবোধ মাহাতো এ ব্যাপারে বলেন, কর্মীর অভাবেই লাইব্রেরিগুলি বন্ধ রয়েছে। তবু তিনি বন্ধ থাকা লাইব্রেরিগুলি খোলার ব্যবস্থা করবেন শীঘ্রই।