৯ মাস বন্ধ গ্রন্থাগার, মুখ থুবড়ে পড়েছে কেরিয়ার গাইডেন্স

387

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কথা মাথায় রেখে কর্ণজোড়ায় রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারে কেরিয়ার গাইডেন্স গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ মাস থেকে জেলা গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে ৯ মাস ধরে সরকারি চাকরির পরীক্ষার কেরিয়ার কাউন্সেলিং ও গাইডেন্স বন্ধ রয়েছে। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন গ্রন্থাগারের পাঠক থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থীরা। জেলা গ্রন্থাগারের কেরিয়ার গাইডেন্সটি অবিলম্বে চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের জেলা গ্রন্থাগারিক বৃন্দাবন কর্মকার জানান, সরকারি নির্দেশ আসলেই গ্রন্থাগারের পরিষেবা সহ কেরিয়ার গাইডেন্সে পুনরায় কোচিং শুরু হবে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার একমাত্র সরকারি গ্রন্থাগারটি রায়গঞ্জ শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণজোড়ায় অবস্থিত। এই রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারেই দোতলার একটি ঘরে দু বছর আগে চালু হয় কেরিয়ার গাইডেন্স। মার্চ মাস থেকে সংক্রমণের জেরে কেরিয়ার গাইডেন্সটি বন্ধ থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। কারণ, এই কেরিয়ার গাইডেন্সে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চাকরির পরীক্ষার নিয়মিত কোচিং নিতেন বহু যুবক-যুবতী। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক  চাকরির পরীক্ষায় কোচিং নিয়ে সাফল্যও পেয়েছেন অনেকে। এখান থেকে কোচিং নিয়ে ডব্লিউবিসিএস অফিসার, শিক্ষক, ক্লার্ক, জেল পুলিশ সহ অন্য পদে কর্মরত রয়েছে প্রায় ২৫ জন যুবক-যুবতী।

- Advertisement -

করোনার কারণে বর্তমানে গ্রন্থাগারে পাঠক ও  চাকরিপ্রার্থীদের আনাগোনায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কবে খুলবে গ্রন্থাগার, কবে চালু হবে কেরিয়ার গাইডেন্স, তা নিয়ে চিন্তিত চাকরিপ্রার্থীরা। খোকসা গ্রামের বাসিন্দা তপন বর্মন রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারের পাঠকের পাশাপাশি এখানকার কেরিয়ার গাইডেন্সের ছাত্র। সরকারি ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। নিতেন কেরিয়ার গাইডেন্সের কোচিং। কিন্তু গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। তপন বর্মন জানান, সরকারি চাকরির জন্য এখানে এসে পড়াশোনা করতাম এবং কোচিং নিতাম।  লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আনলকে প্রায় সব কিছু খুলে গেলেও গ্রন্থাগার  এখনও খোলেনি। প্রায়ই খোঁজ নিই।  কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। হেমতাবাদের বাসিন্দা কমল বসাকও জেলা গ্রন্থাগারে কেরিয়ার গাইডেন্সে কোচিং নিতেন। তাঁর লক্ষ্য সিভিল সার্ভিস। তিনি জানান, চাকরির পরীক্ষার বিভিন্ন বইপত্র ও পত্রিকার দাম বেড়েছে। তাই আমি নিয়মিত এই গ্রন্থাগারে এসে বইপত্র ও পত্রিকা পড়তাম। কেরিয়ার গাইডেন্সে কোচিং নিতাম। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকেরা এখানে এসে কোচিং দিতেন। কিন্তু প্রায় আট মাস গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছে। তাই আমাদের দিকে লক্ষ্য রেখে গ্রন্থাগার চালু করা দরকার। রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের জেলা গ্রন্থাগারিক বৃন্দাবন কর্মকার জানান, লকডাউনের আগে এখানে নিয়মিত আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস অফিসারেরা কেরিয়ার গাইডেন্সের ক্লাস নিতেন। এখান থেকে বহু বেকার ছেলে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি পেয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এমনকি লকডাউনের প্রথম দিকে আমাদের একটি ছাত্র জেল পুলিশেও জয়েন করেছেন।  লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই গ্রন্থাগার বন্ধ। তবে আমরা সরকারি নির্দেশিকা মেনে সপ্তাহে দুই দিন করে গ্রন্থাগারে এসে কাজ করি। নির্দেশ আসলেই গ্রন্থাগার খুলবে।