কোচবিহার রাজবাড়িতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালুর উদ্যোগ

255

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কোচবিহারের রাজবাড়িতে এবার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম চালু করতে উদ্যোগী হল পর্যটন দপ্তর ও জেলা প্রশাসন। পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের জেলাশাসক রাজবাড়ির লাইট অ্যান্ড সাউন্ড নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছেন। ৩ ফেব্রুযারি শিলিগুড়ির গজলডোবা অথবা মৈনাকে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হবে। সেখানে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, কোচবিহার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক সেই বৈঠকে থাকবেন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে কোচবিহারের বিভিন্ন সংগঠন। এর ফলে শহরের পর্যটনের উন্নতি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, রাজবাড়ির লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম সংক্রান্ত কাজে শীঘ্রই কোচবিহার যাব। জেলাশাসক একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছেন। ৩ ফেব্রুযারি  বৈঠকে সেই প্রেজেন্টেশনটি দেখব। সব ঠিকঠাক থাকলে আমরা বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। রাজবাড়িটি য়েহেতু ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের জায়গা, তাই তাদের অনুমতি না নিয়ে কিছু করা যাবে না। সব ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই রাজবাড়ির লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের কাজ শুরু করব। তবে বিষয়টি এখন প্রাথমিকস্তরে রয়েছে।

- Advertisement -

১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের আমলে শহরের কেশব রোডের ধারে কোচবিহারের রাজবাড়ি তৈরি হয়। ১৯৫০ সাল নাগাদ রাজ আমলের অবসান ঘটে। তবে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রাজবাড়িতেই ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মাঝে ১৫-২০ বছর রাজবাড়িটি অবহেলায় পড়ে থাকে। বিংশ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ রাজবাড়িটি অধিগ্রহণ করে। রাজবাড়ির মাঠে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তৈরি সুদৃশ্য বাগান এখন রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। একবিংশ শতকের শুরুতে রাজবাড়ির চারটি ঘরে জাদুঘর খোলা হয়। বর্তমানে আটটি ঘরে জাদুঘর রয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক রাজবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এবার এখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য পর্যটন দপ্তর। ওযাকিবহাল মহলের ধারণা, রাজবাড়িতে এই সিস্টেম চালু হলে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। যা কোচবিহারের পর্যটন মানচিত্রকে বদলে দেবে। কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, রাজবাড়িতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম চালু হলে খুবই ভালো হবে। এর মাধ্যমে কোচবিহারের রাজ আমলের সংস্কৃতি সুন্দরভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। কোচবিহারের রাজাদের খ্যাতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। অ্যাসোসিয়েশন বেটার অফ কোচবিহার-এর সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী আনন্দজ্যোতি মজুমদার বলেন, এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। কারণ, এর আগেও কোচবিহারের রাজবাড়িকে সুদৃশ্য রঙিন আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন থাকার পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও একবার শোনা গিয়েছিল রাজবাড়িতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম চালু হবে। তাতে অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠ ব্যবহৃত হবে। কিন্তু সেসব হয়নি।