বর্ষায় যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, উত্তরবঙ্গে এ এক অন্য শ্রীলঙ্কা

100

উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি : শ্রীলঙ্কা কোথায়? এই প্রশ্ন করা হলে নিশ্চয়ই ভাববেন, এটা আবার কোনও একটা প্রশ্ন হল? এ তো ক্লাস থ্রির পড়ুয়াও জানে। কিন্তু জানেন কি, ঠিক এই নামেই ধূপগুড়িতে একটি বসতি আছে? টেনেটুনে জনা ৩৫ লোকের বাস। পেশা বলতে কৃষিকাজ আর দিনমজুরি। প্রকৃত শ্রীলঙ্কা আগের তুলনায় আজ অনেকটাই উন্নত। ভোট আসে, ভোট যায়। উন্নয়নের নিরিখে ধূপগুড়ির শ্রীলঙ্কা কিন্তু আজও সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছে।

এখানকার অবস্থা আজকাল এমনটাই দাঁড়িয়েছে যে, পাশেই থাকা ধূপগুড়ি শহরের ঝলমলে আলোর রোশনাই যেন ছোট এই গ্রামটিকে দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। ধূপগুড়ির সাঁকোয়াঝোরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাকুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের এমনটাই দাবি। অথচ আজ থেকে কয়েক দশক আগে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু রাতারাতি এখানকার গিলান্ডি নদীর গতিপথ বদলে যায়। নদী তার গতিপথ বদলে অন্যদিকে যাওয়ায় এলাকাটি ব-দ্বীপের মতো চেহারা নেয়। ঘোর বর্ষায় নদী গ্রামের দুটি দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই সময় এলাকার বাসিন্দাদের অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। কলার ভেলায় করে বাসিন্দারা তখন কোনওমতে যাতায়াত করেন। বাসিন্দারা বহুদিন ধরেই নদীতে বাঁধ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বহু প্রতিশ্রুতিতেও কোনও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। এই সূত্রেই এলাকাটি শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিতি পায়। তবে এই নামকরণের জেরে বাসিন্দারা যে দারুণ গর্ববোধ করেন, তা নয়। বরং তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব এই নামের হাত থেকে রেহাই চান।

- Advertisement -

এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের কোনও বন্দোবস্ত নেই। যাতায়াতের জন্য এলাকায় কোনও সিসি রোড গড়ে ওঠেনি। এবারের ভোটের আগে যাতে এই সমস্ত সমস্যার হাত থেকে রেহাই মেলার সুরাহা হয়, বাসিন্দারা এমনটাই দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী পরিমোহন রায় বলছেন, বর্ষার সময় আমাদের অন্য কোথায় যাওয়ার রাস্তা থাকে না। একমাত্র কলার ভেলাই যোগাযোগের মাধ্যম হয় তখন। আজ পর্যন্ত এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের কোনও বন্দোবস্ত করা হয়নি। যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা করা হয়নি। জানি না, কবে আমরা এসবের হাত থেকে রেহাই পাব!

এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সমীর রায় সমস্যাগুলির বিষয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, কাগজে কলমে ঝাকুয়াপাড়া নাম হলেও সমস্যার জেরে এলাকাটি শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিতি পেয়েছে। সমস্যা না মেটার কারণে তিনি সাঁকোয়াঝোরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দিকে আঙুল তুলেছেন। অন্যদিকে প্রধান স্বপ্না রায় বলেন, এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির সদস্য হওয়ার কারণে সব সময় অসহযোগিতা করে আসছেন। শ্রীলঙ্কার সমস্ত সমস্যা মেটাতে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধান আশ্বাস দেন।