সোনা লুঠের ঘটনায় গ্রেপ্তার ডাকাত দলের লিংক ম্যান

295

পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহরের স্বর্ণঋণ সংস্থা থেকে সোনা লুঠ করে পালনোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হল ডাকাত দলের এক লিংক ম্যান। ধৃতের নাম বিপ্লব রায় ওরফে বাপ্পা। উত্তর ২৪ পরগণার নিউটাউন থানার প্রমোদগড়ে তার বাড়ি। সোমবার রাতে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তর ২৪ পরগণার ইকো পার্ক থানার আকাঙ্খা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতকে মঙ্গলবার পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। ডাকাত দলের হদিশ পেতে এবং সোনা উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ধৃতকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম মণিকা চট্টোপাধ্যায়(সাহা) সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের দাবি, বর্ধমান শহরের স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে ধৃতের সম্পর্ক রয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে ডাকাত দলের বেশিরভাগ সদস্যই বিহারের বাসিন্দা। ধৃত বিপ্লব রায়ের মোবাইল ফোনটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, বর্ধমান শহরের বিসি রোডের স্বর্ণঋণ সংস্থায় গত ১৭ জুলাই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৭ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতি ঋণদান সংস্থার অফিসে ঢুকে সংস্থার কর্মীদের প্রথমে মারধর করে।পরে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সংস্থার কর্মীদের এক জায়গায় আটকে রেখে সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ হেডকে স্ট্রংরুম খুলতে বলে। এরপর স্ট্রংরুম থেকে ৩০ কেজি ২০৫ গ্রাম ২০ মিলিগ্রাম সোনা লুঠ করে পালয়। ওই সময়ে সংস্থার অফিসে যাচ্ছিলেন বর্ধমান শহরের সরাইটিকরের বাসিন্দা হীরামণ মণ্ডল।

দুষ্কৃতীদের একজন হীরামণকে সংস্থার অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়। তাঁকে গুলিও করে। হীরামণের পিঠে গুলি লাগে। গুলি চালিয়েই দুষ্কৃতিরা দ্রুত বাইকে চেপে পিলখানা রোড ধরে চম্পট দেয়।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ডাকাতির ঘটনার তিনদিন আগে বিকাল ৪ টা ৪০ নাগাদ এক অবাঙালি ব্যক্তি গোল্ড লোন নেওয়ার নিয়মকানুন জানতে আসে সংস্থার অফিসে। অফিসের কাস্টমার রেজিস্টারে ওই ব্যক্তি নিজের নাম দীপক কুমার বলে লেখায়। ডাকাতির দিন সেই ব্যক্তি প্রথমে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার কথা বলে অফিসে ঢোকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাকাত দলের বাকিরা অফিসে ঢোকে। অফিস থেকে পুলিশ একটি চেন দেওয়া বেগুনি রংয়ের পিঠ ব্যাগ পায়। তাতে একটি খালি ম্যাগাজিন ছিল। বিসি রোড থেকে পুলিশ দু’টি তাজা ৭.৬৫ এমএম কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করে।

ডাকাতির ঘটনার পরদিন সিআইডির ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞরাও সংস্থার অফিসে তদন্তে যান। বেশকিছু আঙুলের ছাপ পান বিশেষজ্ঞরা। সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ও সিআইডি কর্তারা ডাকাত দলটি বিহারের বলে নিশ্চিৎ হন। ধৃত লিংক ম্যানকে জেরাকরে ডাকাত দলের নাগাল পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারী কর্তারা মনে করছেন।