ত্যাগের পুরস্কার হোক ট্রফি, চাইছেন মেসিরা

রিও : এবারই শেষ সুযোগ।

মুখে না বললেও লিওনেল মেসি জানেন, এবার না পারলে হয়তো আর কোপা আমেরিকা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাবেন না। তাই প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জয়ের কথা বলছেন তিনি। রবিবার ভারতীয় সময় ভোরে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাই মরণপণ লড়াইয়ে নামবেন আর্জেন্টাইন ম্যাজিশিয়ান ও তাঁর দশ সতীর্থ।

- Advertisement -

তিনবার কোপা জয়ের খুব কাছে গিয়ে সাফল্য আসেনি। ২০০৭ সালে ব্রাজিলের কাছে হারেন ০-৩ গোলে। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬- পরপর দুবছর চিলির কাছে টাইব্রেকারে হার মানে আর্জেন্টিনা। মাঝে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার। ফলে আন্তর্জাতিক ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি ছয়বারের ব্যালন ডিঅর জয়ীর। তাই আরও একটা ফাইনালে উঠে আর খালি হাতে ফিরতে রাজি নন তিনি। মাঠেও এই অদম্য জেদের প্রমান মিলছে। স্বাভাবিক শান্ত চরিত্রের পরিবর্তে এবার মেসি কিছুটা আগ্রাসী। ৪ গোল করে ও ৫টি করিয়ে এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনা তো বটেই, কোপারও সেরা ফুটবলারের তালিকায় সবার ওপরে তিনি। এমনকি কলম্বিয়া ম্যাচে দীর্ঘক্ষণ বাঁ পায়ের ক্ষত থেকে রক্ত ঝড়লেও ভ্রুক্ষেপ করেননি।

ফাইনালে ওঠার পর এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, আমরা উত্তেজিত। আগের যে কোনও বারের থেকে এবার জয়ের বিষয়ে আমরা বেশি উত্তেজিত। গতবারের কোপার থেকে এবার আমাদের স্কোয়াড অনেক সুগঠিত, শক্তিশালী। গতবার আমাদের পারফরমেন্স খারাপ ছিল এমন নয়। আর এবারও আমরা একেবারে নীচ থেকে উঠে এসেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আরও একটা ফাইনাল খেলতে পেরে খুশি। আমি দেশকে অন্তত একটা ট্রফি দিতে চাই। সতীর্থদের মান নিয়ে মেসির উক্তি একেবারে ফাঁকা বুলি নয়। ২০১১-১৬ সালের মধ্যে টানা তিনবার টাইব্রেকারে হেরে কোপা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। এবার সেমিফাইনালে সেই টাইব্রেকারে তিনটি শট রুখে কলম্বিয়াকে হারানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছেন দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এবার চ্যাম্পিয়ন হলে দেশের জন্য খেতাবের পাশাপাশি বেশ কিছু বোনাস রয়েছে মেসিদের জন্য। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মাঠে, তাদেরই হারিয়ে খেতাব। আবার ম্যাচ না জিতলেও ব্রাজিলিয়ানদের খোঁচা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। দক্ষিণ আমেরিকানদের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে (৭৭)। ফাইনালে জোড়া গোল করলে সেই রেকর্ড চলে আসবে মেসির (৭৬) হাতে। সেসব না হলেও অবশ্য ভেঙে পরবেন না তিনি। ফাইনাল খেলার আগে তাঁর বক্তব্য, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। তবে হতে পারব কি না তা সময় বলবে। কিন্তু এই দেড় মাস সময় আমরা সকলে দারুণভাবে উপভোগ করেছি। পরিবারের থেকে দূরে আছি। কয়েকজনের সন্তানের জন্মদিন ছিল। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সকলে ত্যাগ স্বীকার করেছে।

সেই ত্যাগের পুরস্কার হিসেবেই ট্রফি দেশে নিয়ে যেতে চাইছেন মেসি।