মাঠে রক্ত ঝড়ল ক্রুব্ধ মেসির

ব্রাসিলিয়া : এ তুমি কেমন তুমি….?

বুধবার ভোরে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে লিওনেল মেসিকে দেখলে রূপঙ্কর বাগচির এই গান মাথায় আসাই স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষের ট্যাকেলে আঘাত পেলেন পায়ে, ঝড়ল রক্ত। তা উপেক্ষা করে প্রায় এক ঘণ্টা খেললেন। টাইব্রেকারে পেনাল্টি নষ্ট করার বিদ্রুপ করলেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে। সবমিলিয়ে মাঠে মেসির এমন রূপ খুব একটা দেখেনি ফুটবল বিশ্ব।

- Advertisement -

৫৭ মিনিট নাগাদ কলম্বিয়ান সাইডব্যাক ফ্র‌্যাঙ্ক ফাব্রার ট্যাকেলে মাঠে লুটিয়ে পড়েন মেসি। বাঁ পায়ে গোড়ালির উপরে কেটেও যায়। যদিও ভেনেজুযোর রেফারি জেসাস ভেলানজুয়ালা ফাউল দেননি। শুধুমাত্র মেসির শুশ্রূষার জন্য মিনিট দুয়েক খেলা বন্ধ রাখেন। দলের চিকিৎসক রক্ত বন্ধ করার ব্যবস্থা করে যন্ত্রণানাশক স্প্রে ছিটিয়ে দেন। এরপর খেলা যত গড়িয়েছে, মেসির বাঁ পায়ের মোজা ক্রমেই লাল হয়ে গিয়েছে। ৩১ বছর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিল ম্যাচে রক্ত ঝড়েছিল দিয়েগো মারাদোনার। সেদিন গোল করিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন মারাদোনা। এদিনও আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলের পাসটি এসেছে মেসির পা থেকে।

টাইব্রেকার চলাকালীন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনাকে বিদ্রুপও করেন মেসি। রাশিয়া বিশ্বকাপের পরই বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলেছেন দুজনে। কিন্তু এদিন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের হাতে মিনার শট আটকে যেতেই মেসি একাধিকবার বলেন, ‘এবার নেচে দেখাও।’ আসলে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে টাইব্রেকারে হারানোর পর মাঠে নেচে উদযাপন করনে মিনা। মেসি তা নিয়ে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডারকে খোঁচা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ম্যাচে কলম্বিয়ানদের আক্রমণের লক্ষ্যই ছিলেন মেসি। সরকারিভাবে পাঁচবার ফাউল করা হয়েছে তাঁকে। বাজে ট্যাকেল করা হয়েছে আরও কয়েকবার। ম্যাচ শেষে অবশ্য হাসিমুখেই ফাব্রাকে জার্সি দিয়েছেন এই আর্জেন্টানই সুপারস্টার।

সেমিফাইনালে মেসিদের সমর্থন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। যা নিয়ে মেসির বক্তব্য, আমরা দুজনেই ফাইনাল খেলব। নেইমার কী বলেছে জানি, কারণ আমরা বন্ধু। তাই ও আমাকে ফাইনালে দেখতে চেয়েছে। জয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রথম লক্ষ্য পূরণ করেছি। আশা করছি ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াই হবে। টাইব্রেকারে তিনটি শট রোখা গোলরক্ষক মার্টিনেজের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের মুখে।