শিশুবাড়িতে হোস্টেল চত্বরে মদের আসর 

871

রাঙ্গালিবাজনা: মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর ২ বছর ১০ মাস কেটে গেলেও চালু হয়নি গার্লস হোস্টেল। হোস্টেলের তালাবন্ধ ভবনের সামনে এখন নিয়মিত মদের আসর বসে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়িতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের ১ কোটি ১১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩৯৯ টাকা ব্যয়ে শিশুবাড়ির খিদিরপুর রহমানিয়া হা‌ই মাদ্রাসার ছাত্রীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল গার্লস হোস্টেলের দ্বিতল ভবন।

পঞ্চায়েত নির্বাচন এসে পড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি ওই ভবনটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। এরপর আরও ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয় হোস্টেলের পেছনে। তবে আজ পর্যন্ত হোস্টেলটি চালু করা হয়নি। মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সম্পাদক মকসেদুল হক বলেন, ‘আজ পর্যন্ত হোস্টেলটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়নি নির্মাণকারী সংস্থা।

- Advertisement -

এছাড়া এখনও সেখানে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ রয়েছে।‘ এ প্রসঙ্গে মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জেরেই গত কয়েক মাস ধরে হোস্টেলটি চালু করা যায়নি। এছাড়া ঠিকাদার সংস্থার প্রাপ্য বিলের একাংশ এখনও পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। তাই ঠিকাদার সংস্থা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাতে হোস্টেলের চাবি দেয়নি।‘

প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অর্থানুকূল্যে হোস্টেলের ভবনটি নির্মাণ করে মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হোস্টেলটি যখন উদ্বোধন করেন তখনও শৌচাগার এমনকি বিদ্যুদয়ন পর্যন্ত হয়নি। শুধু নীল সাদা রং করেই উদ্বোধন করা হয় হোস্টেল ভবনের। এরপর ফের টাকা চাওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

পঞ্চায়েত সমিতির ব্যাখ্যা, টাকা না কুলোতেই হোস্টেলটি নির্মাণের কাজ শেষ করা যাচ্ছিল না। হোস্টেলটি মাদ্রাসার সমতল মাঠে তৈরি করার পরিকল্পনা মোতাবেক টাকা মিলেছিল। কিন্তু মাঠ বাঁচাতে নীচু খাস জমিতে হোস্টেলটি নির্মাণ করা হয়। এতে নির্মাণ বাবদ খরচ অনেক বেশি হয়েছে। মাটির অনেকটা গভীর থেকে হোস্টেলের ভিত গঠন করা হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আরও বত্রিশ লক্ষ টাকা খরচের অনুমোদন চাওয়া হয়। পঞ্চায়েত সমিতি জানিয়েছে, লকডাউন চলাকালীন শৌচাগার ও বিদ্যুদয়নের কাজ করা হয়েছিল। এমনকি পানীয় জল সরবরাহ করার ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি পঞ্চায়েত সমিতির।

মুখ্যমন্ত্রী হোস্টেলটি উদ্বোধন করার ২৩ মাস পর গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ওই হোস্টেল পরিদর্শনে যান আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা, মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং প্রমুখ। সেদিন জেলাশাসক জানান, খুব শীঘ্রই হোস্টেলটি চালু করা হবে। তবে ঘটনা হল তখনও পর্যন্ত হোস্টেলটির পরিকাঠামো অসম্পূর্ণই রয়ে গিয়েছিল। চলতি বছর মাদ্রাসার ওপরতলায় ওঠার সিঁড়ির টিনের চালা ঝড়ে উড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থাও। তালাবন্ধ ভবনের পাঁচিল টপকে ভেতরে গিয়ে এখন মদের আসর বসায় অনেকেই, জানান স্থানীয়রা।

এলাকার অনেকেই জানান, দিনের বেলাতেও পাঁচিল টপকে হোস্টেল চত্বরে ঢুকে মদের আসর বসানো হচ্ছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, ‘আমরা এদের বাঁধা দেওয়ার সাহস পাই না কারণ বাধা দিতে গেলে উল্টে  আমাদেরই বিপদে পড়তে হতে পারে।‘ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকাদারের বকেয়া বিল মেটানোর আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই ঠিকাদারের বিল মিটিয়ে হোস্টেলটি চালু করা যাবে।‘ মাদারিহাট থানার ওসি টি এন লামা বলেন, ‘হোস্টেল চত্বরে নজরদারি চালানো হবে।‘