হায়দারপাড়ার মার্কেট কমপ্লেক্সে বসছে নেশার আসর

429

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : পুরনিগমের উদ্যোগে তৈরি হায়দরপাড়া মার্কেট কমপ্লেক্সে এখন নেশার আসর বসছে। ১৭ বছর আগে নির্মিত হলেও এখনও পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সে গেট নেই। সবজি ও মাছ-মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা স্টলগুলিতে সন্ধ্যার পর থেকেই নেশার আসর বসায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এর আগে ঘুড়ি পাড়তে গিয়ে কমপ্লেক্সটির ওপর থেকে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। তখনও কমপ্লেক্সে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনিগম ও একটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা এই চারতলা মার্কেট কমপ্লেক্সের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হায়দরপাড়ার রাস্তার ধারে বসা সবজি, মাছ ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যানজট সহ অন্য সমস্যার সমাধান করা। কমপ্লেক্সের তিনটে তলাজুড়ে দোকান চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুয়ায়ী মার্কেট কমপ্লেক্সের নীচের তলায় আলাদা আলাদা করে সবজি, মাছ-মাংসের স্টল করা হয়। রাস্তার ওই অংশে বসা ব্যবসায়ীদের মার্কেট কমপ্লেক্সের নীচের তলার রাস্তার ধারের অংশে পুনর্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০২ সালে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন দেওয়া হলেও ফুটপাথে বসা মাছ-মাংস ও সবজি ব্যবসায়ীরা বেঁকে বসেন। হায়দরপাড়া বাজার কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল বলেন, আমরা সেইসময় হঠাত্ করে শুনতে পাই যে রাস্তার ধারে বসা ব্যবসায়ীদের ওই মার্কেট কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হবে। অত দূরে বাজার গেলে আমাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যেত। তাই আমরা এর বিরোধিতা করি। পুরনিগম থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার ধারে বসা যাবে না। তখন আমরা নিজেরাই সমিতির তরফে ওই ব্যবসায়ীদের টাকাতেই বাজার এলাকায় জমি কিনে আলাদা করে স্টল করে দিই।  কয়েকজন স্টল কিনলেও পরিকাঠামোর অভাবে তা চালানো সম্ভব হয়নি বলে নির্মলবাবু জানিয়েছেন। পুরনিগম ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দূরদর্শিতার অভাবে এই অবস্থা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা প্রলয় রায় বলেন, বাজার নিয়ে আসার পরিকল্পনা ধাক্কা খাওয়ার পরে মার্কেট কমপ্লেক্সের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যায়। এমনকি ওপরের দুটি তলার দোকানঘর তৈরির কাজও বন্ধ হয়ে যায়। নীচের দুটি তলার দোকানঘরগুলির একাংশ খালি পড়ে রয়েছে। মার্কেট কমপ্লেক্সটি এখন সন্ধ্যার পর থেকেই দুষ্কৃতীদের আওতায় চলে যাচ্ছে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি যুব কংগ্রেস সভাপতি মনোজ আগরওয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে কমপ্লেক্সটির পরিত্যক্ত পরিস্থিতি বদলানোর ব্যাপারে পুরনিগম সুষ্ঠু কোনও ব্যবস্থা না নিলে জায়গাটি দুষ্কৃতীদের আখড়ামুক্ত করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত দোকান ও স্টলগুলির বিষয়ে পুরনিগম সার্কুলেশন জারি করুক। দোকান ও স্টলগুলি পুরনিগম বিক্রি করবে নাকি ভাড়া দেবে, সেটা আগে ঠিক করুক।

পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রামভজন মাহাতো বলেন, এটা ঠিক যে মার্কেট কমপ্লেক্সগুলি পরিত্যক্ত থাকার কারণেই এই নেশার আসর বসছে। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কড়া নজর দিতে বলব। তিনি আরও বলেন, কমপ্লেক্সগুলির সামনের দিক থেকে কিছু কিছু দোকান চালু হতে শুরু করেছে। দ্রুতই সমস্তটা চালুর ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।