বেভকো থেকে ঢালাও বিক্রি মদের, পারমিট-চালান দেখাতে পারলেন না কেউ

214

পুরাতন মালদা, ৪ মেঃ সরকারী নির্দেশিকা আসতে না আসতেই ঢালাও মদ বিক্রি শুরু হল পুরাতন মালদার সরকারি মদের গোডাউন বেভকো থেকে। সোমবার আবগারি, পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে মদ বিক্রি করা হয়। যদিও, মদ পরিবহণ করার বৈধ পারমিট বা মদের চালান দেখাতে পারলেন না কোনও গাড়ির চালকই। ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা খবর করতে ছুঁটে গেলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে আবগারি কর্তাদের বিরুদ্ধে। সব দেখেশুনেও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে ছিল পুলিশ। লকডাউন মানা নিয়ে যখন পুলিশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা জেলাজুড়ে তখন বৈধ পারমিট ও চালান না দেখাতে পারলেও, কীভাবে তা পরিবহণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশ, আবগারি ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধেই।

সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ প্রশাসন সূত্রে খবর মদ বিক্রি নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা এবং জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আসেনি। অথচ ওই সময়ই পুরাতন মালদার সরকারি মদের গোডাউন বেভকোয় মদ তোলার জন্য গাড়ির ভিড় পরে যায়। একটু পরেই সে সব গাড়িতে মদ বোঝাই করে তা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে শুরু করে। যদিও সে সব গাড়িতে ছিল না কোনও বৈধ পারমিট বা মদ কেনার চালান। লকডাউনের সময় গাড়িতে ট্রান্সপোর্ট পারমিট থাকাটা বাধ্যতামূলক। এমনকি পণ্য পরিবহণের পারমিট থাকাটাও জরুরি। এই নিয়ম না মানায় জেলায় ধড়পাকড়ও চালিয়েছে পুলিশ। অথচ বেভকো থেকে কোনও ট্রান্সপোর্ট পারমিট ছাড়াই একের পর এক গাড়ি বেরিয়ে গেলেও হেলদোল দেখা যায়নি পুলিশ বা প্রশাসনের। ঘটনার খবর করতে বেভকোর সামনে উপস্থিত হন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। পারমিট বা চালান ছাড়াই গাড়িগুলি বেরোতে থাকলে, তা ক্যামেরাবন্দী করতে থাকেন তারা। তাতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে দেন বেভকোর কর্মী ও আবগারির আধিকারিকরা। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আবগারি কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আবগারি সুপার সমেত অন্যান্য কর্তারা সেখানে পৌঁছান। উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলাশাসক সাধারণ ও ভূমি এবং ভূমি সংস্কার ও জেলা পুলিশের কর্তারা । তাঁদের উপস্থিতিতেই গাড়িতে করে চলে মদ পরিবহণের কাজ। ট্রান্সপোর্ট পারমিট ছাড়াই গাড়িগুলি কীভাবে পণ্য পরিবহণ করছে, সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি কারও কাছেই।

- Advertisement -

জেলা আবগারি সুপার সুরক্তিম মুখার্জি জানান, বেভকো থেকে মদ বিক্রির সঙ্গে সঙ্গেই মদের চালান ও ট্রান্সপোর্ট পারমিট নাকি দেওয়া হচ্ছে। যদিও, কোনও গাড়ির চালকই সেসব দেখাতে পারেননি। উল্টে বিপজ্জনকভাবে গাড়ির গতি বাড়িয়ে পালাতেই ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা। গোটা ঘটনা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেন পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকরা। স্বভাবতই এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে লকডাউন কার্যকর করার প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়েই। বৈধ পারমিট ও চালান ছাড়া কোনও যানবাহন রাস্তায় দেখলেই যেখানে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, তখন মদের মতো পণ্য নিয়ে পারমিট ও চালান ছাড়াই ( যা সাংবাদিকদের দেখাতে পারেন নি কেউই) কীভাবে এতগুলি যানবাহন রাস্তায় যাতায়াত করছে, উঠছে সে প্রশ্ন। লকডাউনের সময় মদের কারবার ফের শুরু হলে আখেরে সংক্রমণ ও অসামাজিক কাজকর্মের বাড়বাড়ন্ত হবে কিনা তা নিয়েও বড় জিজ্ঞাসা চিহ্ন তৈরি হচ্ছে।