মদের আসর বাস টার্মিনাস ও নতুন বাজার মার্কেট কমপ্লেক্সে

238

ময়নাগুড়ি: মদের ঠেকে পরিনত হয়েছে ময়নাগুড়ি নতুন বাজার বাস টার্মিনাস ও নতুন বাজার মার্কেট কমপ্লেক্স। দিনরাত মাতালদের ঠেক বসছে কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত দোকানঘর ও সিড়ির প্যাসেজে। কখনও কখনও দ্বিতল ও ত্রিতল ভবনগুলি থেকে রাস্তায় এসে পড়ে মাতালদের ছুড়ে ফেলা খালি বোতল। সেই আতঙ্কেই সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় যাতায়াত করা দুস্কর হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের।

বৃহস্পতিবার বাস টার্মিনাস মার্কেট কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত দোকানঘরের সিড়িতে ক‍্যামেরা তাক করতেই সেই ছবি এল সামনে। হুড়মুড়িয়ে মাতালরা আসর ত‍্যাগ করলেও চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের খালি মদের বোতল, গ্লাস ভর্তি মদ, প্লাস্টিকের গ্লাস ইত্যাদি।

- Advertisement -

নতুন বাজারে গত ২০০৫ সালের ১২ মার্চ এই বাস টার্মিনাস এবং মার্কেট কমপ্লেক্সের উদবোধন করেন রাজ‍্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তখন জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি ছিলেন বনমালী রায়। এখানে মার্কেট কমপ্লেক্সে দ্বিতল এবং ত্রিতল ভবনের অসংখ্য দোকানঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই ফাঁকা দোকানঘর এবং সিড়ির প্যাসেজে মদের ঠেক বসে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রলয় দাস বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে নতুন বাজারে যাওয়ার সময় সন্ধের পর একটি খালি মদের বোতল উপর থেকে এসে পড়ে পায়ের কাছে। বোতলটি কাঁচের ছিল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এরপর থেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছি।’

তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিতু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা একাধিকবার এর বিরুদ্ধে নিজেরাই অভিযান চালিয়েছি। আবার শুরু করতে হবে। নতুন বাজার ওয়েলফেয়ার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, ‘দিন রাত সব সময় চলছে এই কারবার। আমি জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি প্রত‍্যেকটি সিড়িতেই কোলাপসিবল গেট লাগিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিতে।’

নতুন বাজার থেকে সামান্য দূরত্বে রয়েছে আবগারি দপ্তরের অফিস। পাশেই ময়নাগুড়ি থানা। আইসি অসীম গোপ বলেন, ‘আমরা ওখানে এর আগেও অভিযান চালিয়েছি। আবার অভিযান চালানো হবে। আবগারি দপ্তরের ময়নাগুড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমলকুমার সরকার বলেন, ‘আমরা সত্ত্বর এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।’