টোটোর টিআইএন নিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমাশাসকের অফিসে কারচুপি

347

শিলিগুড়ি, ১৪ নভেম্বর : আবেদনকারীর নামের জায়গায় অন্যের নাম বসিয়ে টোটোর টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার খোদ শিলিগুড়ির মহকুমাশাসকের কার্যালয় থেকে। ওই অফিসেই একটি চক্র এই কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সূত্রের খবর। সূত্রটি জানিয়েছে, এমন বেশ কিছু নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে য়েখানে দেখা যাচ্ছে টোটোর টিআইএন চেয়ে যিনি আবেদন করেছিলেন তাঁর নামে টিআইএন বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে ওই তালিকার নাম বদলে গিয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে টোটো মালিক এবং চালকদের সংগঠন। শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায় বলেছেন, এমন ঘটনা হওয়ার কথা নয়। টোটোর টিআইএন বরাদ্দ নিয়ে একটাই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম বদলে দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

শিলিগুড়িতে কয়েক বছর ধরেই হাজার হাজার টোটো চলছে। এই টোটোগুলিকে একটা নিয়মের মধ্যে আনার জন্য টিআইএন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শিলিগুড়ির মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে ২০১৭ সালে টিআইএন-এর জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়। প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি আবেদন পড়ে বলে দপ্তর সূত্রের খবর। তার মধ্যে বাছাই করে প্রায় তিন হাজার আবেদনপত্র অনুমোদন করে সেগুলিকে টিআইএন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তার একটি তালিকাও তৈরি হয়। সেই তালিকায় ক্রমিক নম্বর, আবেদনপত্রের নম্বর, আবেদনকারীর নাম, বাবার নাম, ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর এবং বরাদ্দ টিআইএন লেখা হয়েছিল। এবার এই তালিকা ধরে ধরে প্রত্যেককে টিআইএন নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফি ব্যাংকে জমা দিতে মোবাইল নম্বরে মেসেজও করা হয়। কিন্তু এখনও প্রায় ৩৫০-৪০০ জন টিআইএন নেননি। মহকুমাশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হয়তো অনেকে মেসেজ পাননি, অনেকেই আবার সেই সময় বাইরে ছিলেন। এখন ধীরে ধীরে অনেকেই টিআইএন নিতে আসছেন।

- Advertisement -

কিন্তু এরই মধ্যে মহকুমাশাসকের অফিসেই একটি চক্র টিআইএন-এর তালিকায় কারচুপি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে বা যাঁরা আবেদন করার পরে এখনও টিআইএন-এর জন্য দপ্তরে যোগাযোগ করেননি সেই তালিকায় কারচুপি করে নাম বদলে অন্যকে টিআইএন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহকুমাশাসকের দপ্তরেরই এক কর্মী নিজের ভাইয়ে নামে এভাবে কারচুপি করে টোটোর টিআইএন দিয়েছেন। সেই টিআইএন আবার রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিলিগুড়ির অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরে জমাও পড়েছে। নর্থবেঙ্গল টোটো ওনার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিপ্লব দত্ত বলেন, এভাবে মহকুমাশাসকের অফিস থেকেই যদি টিআইএন দেওয়া নিয়ে কারচুপি হয় তাহলে আমরা কার উপরে ভরসা করব? অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। য়ারা এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে তাদেরও শাস্তির দাবি করছি।