দেড়মাস কাছে আসে না বাবা, তবু গর্বিত অনন্যা

অশোক মণ্ডল, দুবরাজপুর : দেড়মাসেরও বেশি সময় বাবাকে কাছে পায় না খুদে অনন্যা। ভিডিও কলেই যতটা কথা হয়। কিন্তু তাতেও কোনও দুঃখ নেই অনন্যার। বরং তার কথায়, আমি বাবার জন্য গর্বিত।

ঢেঁড়োবাজারের অনন্যার বাবা আশিস ঘোষ ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় খয়রাশোলে পরিযায়ী ইটভাটার শ্রমিকদের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত। যার ফলে লকডাউন শুরুর কয়েকদিন পর থেকেই টানা বাড়ির বাইরে রয়েছেন তিনি। তাঁর কাজ প্রসঙ্গে খয়রাশোলের বিডিও সঞ্জয় দাস বলেন, কেন্দ্রগড়িয়া, জামালপুর, ডিহিপাড়া, খয়রাশোল সহ ব্লকজুড়ে অজয় নদের তীরে অসংখ্য ইটভাটার শ্রমিকরা লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের বাড়ি পাঠানো, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, খাবার পৌঁছে দেওয়া- সবকিছুতেই আশিসবাবু আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। আমি প্রশাসনের তরফে তাঁর এই মানসিকতার জন্য সাধুবাদ জানাই। খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল গায়েন বলেন, আশিস আমার ব্লক এলাকায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। এ ধরনের ভালো কাজের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির তরফে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

- Advertisement -

খয়রাশোল ব্লক হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল রক্ষিত বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পে চিকিৎসা করতে গিয়ে আশিস ঘোষের কাজ নজরে এসেছে। বাড়ি-পরিবার ছেড়ে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রশাসনের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আশিস ঘোষ তাঁর সহকারীদের নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাবার জোগাড়ে সাহায্য করছেন। যদিও আশিসবাবু বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের সেবা করতে পেরে আমি ধন্য। বাড়ি না যাওয়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা আছেন, ছোট্ট মেয়ে আছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ওঠা-বসা করছি। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়। সেজন্য প্রায় দেড়মাস বাড়ি যাই না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফিরব।