সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : গত বৃহস্পতিবার জটেশ্বরের ক্ষীরেরকোট হাইস্কুল চত্বরে থাকা একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে। সেই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এক ছাত্রী। একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বংশীধরপুর সিএস প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল মাঠের মাঝখানে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। মাঠের ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে বিদ্যুৎবাহী তার। সেই মাঠে খেলাধুলো করে স্কুলের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, স্কুলের তরফে বারবার বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে  বিদু্য়তের খুঁটি ও তার সরানোর দাবি জানানো হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো হেলদোল নেই। বিদ্যুৎবাহী তারের পাশাপাশি পরিকাঠামোগত আরও কিছু সমস্যার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ফালাকাটার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) রাজা ভৌমিক। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির আলিপুরদুয়ারের রিজিওনাল ম্যানেজার বি বি বর্মন বলেন, সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে দপ্তরের কাছে আবেদন জানানো হলে ওই বিষযে পদক্ষেপ করা হবে।

জলদাপাড়া বনাঞ্চলের পাশে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বংশীধরপুর সিএস প্রাইমারি স্কুল। এক সময় ৪-৫টি গ্রামের শিশুরা এই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। চার বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠে স্কুলের ঘর ও মাঠ। এই স্কুলে এখন ৭৯ জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক আছেন তিনজন। তবে প্রধান শিক্ষক নেই। গ্রামে বিদ্যুদয়নের সময় এই স্কুল মাঠের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হয়। তখন স্কুলের তরফে আপত্তিও জানানো হলেও বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি পাত্তাই দেয়নি বলে অভিযোগ। বহুদিন থেকে এই বিদ্যুৎবাহী তার পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষীরেরকোট হাইস্কুলের ঘটনার পর তাঁদের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক নিতাই রায় বলেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠালেও সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়। খুঁটি ও বিদ্যুতের তার সরানোর দাবি স্কুল শিক্ষকদের কয়েক বার জানিয়েছি। স্কুল কর্তপক্ষ ও বিদ্যুৎ দপ্তর পড়ুয়াদের কথা ভেবে যাতে এ বিষয়ে তৎপর হয় সেই দাবি জানান তিনি। টিআইসি জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, কয়েকবার বিষয়টি বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে জানানো হলেও কিছুই লাভ হয়নি। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় থাকি আমরা। পুরো বিষয়ে ফের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ বলাই আইন বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর খরচ বহন করা ও তা কোথায় সরানো হবে সেই জায়গা চিহ্নিত করার শর্তে যদি ওই স্কুল থেকে আবেদন জানানো হয় তবে বিষয়টি খতিযে দেখা হবে। তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে এটাই নিয়ম।