তারকাদের অনুপস্থিতিতে মগজের লড়াইয়ে ক্লপ-জিজু

মাদ্রিদ : কিয়েভ, ২০১৮ থেকে মাদ্রিদ, ২০২১।

তিন বছরে বদলে গিয়েছে বিশ্ব, পরিবর্তন হয়েছে ফুটবলে। একইভাবে বদলে গিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তিন বছর আগের ফাইনালের রিপ্লে। কিন্তু সেই ম্যাচের বহু চরিত্রই নেই এবার। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য ক্লাবে, আবার কারও চোট। তবে সব ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে জুর্গেন ক্লপ ও জিনেদিন জিদানের মগজাস্ত্রের লড়াই।

- Advertisement -

তিনবছর আগে ফাইনালে মাদ্রিদের দলটির সবচেয়ে বড় তিনটি নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, গ্যারেথ বেল ও সের্জিও র্যামোস নেই এই ম্যাচে। রোনাল্ডো জুভেন্তাসে, বেল টটেনহ্যামে। আর র্যামোস চোটে ছিটকে গিয়েছেন। আবার লিভারপুলও ভার্জিল ভ্যান ডাইক, জর্ডন হেন্ডারসনদের পাবে না।

জিদানকে স্বস্তি দিয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন এডেন হ্যাজার্ড। যদিও তাঁর খেলা প্রসঙ্গে রিয়াল বস বলেছেন, হ্যাজার্ড এখনও ম্যাচ খেলার জন্য ফিট নয়। আমি চাই দলের সকলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে নামুক। আর হ্যাজার্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওর ফিট হওয়া নিয়ে আমরা কোনও ঝুঁকি নেব না। অবশ্য থিয়াগো আলকান্তারা, ফাবিনহো সুস্থ হওয়ায় কিছুটা চাপমুক্ত ক্লপ।

রিয়ালের বিরুদ্ধে শেষ তিন ম্যাচেই হেরেছে লিভারপুল। এমন অবস্থায় ক্লপের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন দিয়েগো জোটা। দেশ ও ক্লাব মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচে ৬ গোল করেছেন। গত ম্যাচে আর্সেনালের বিরুদ্ধে জোটা নামার পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়েছে লিভারপুল। জিদানের ডিফেন্সে র্যামোসের অনুপস্থিতির সুযোগ নিতে তাঁকে শুরু থেকেই খেলাতে পারেন ক্লপ। তিন বছর আগে ফাইনালের শুরুতেই র্যামোসের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন লিভারপুলের মহম্মদ সালাহ। এই ম্যাচে প্রচারের আলো কেড়ে নিতে তৈরি আছেন তিনিও। যদিও তাঁকে কোচিং করানো নিয়ে জিদানের স্পষ্ট জবাব, ও আমার দলের সদস্য নয়। আমি শুধুমাত্র নিজের ২৫ জন ফুটবলারের পারফরমেন্স নিয়ে ভাবছি।

অবশ্য ক্লপের দলের ডিফেন্স দেখে আশ্বস্ত হবেন জিদানও। গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অস্ত্র করিম বেঞ্জিমা। তিন বছর আগে ফাইনালে গোল ছিল তাঁর। ক্লাবের জার্সিতে টানা ৭ ম্যাচে গোল পেয়েছেন তিনি। এই ৭ ম্যাচে ৯ গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও আছে। এমন ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ডকে আটকানোর দায়িত্বে থাকবেন ন্যাট ফিলিপ্স এবং ওজান কাবাক। ফলে ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল একপ্রকার নিশ্চিত করার দিকেই নজর রিয়ালের। আবার টানা হারের ধাক্কা সামলে শেষ তিন ম্যাচে আরবি লিপজিগ, উলভস ও আর্সেনালের মতো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী লিভারপুল।